ব্রাজিলে বাংলাদেশিদের জন্য দেড়শ স্কলারশিপের ব্যবস্থা, পড়ছেন মাত্র একজন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ফুটবলের দেশ হিসেবে ব্রাজিলের পরিচিতি সর্বজনীন হলেও শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে দেশটির অনন্য সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। ল্যাটিন আমেরিকার এই সমৃদ্ধ দেশটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশিদের জন্য বছরে ১৫০টি স্কলারশিপ বা বৃত্তির সুযোগ দিচ্ছে ব্রাজিল সরকার।

তবে অবাক করার মতো তথ্য হলো, এই বিশাল সুযোগের বিপরীতে বর্তমানে সেখানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন মাত্র একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। মূলত পর্তুগিজ ভাষার জটিলতা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির সুবিধা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই বাধা দূর করতে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের লাতিনমুখী করতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে দুই দেশের সরকার।

ব্রাজিলের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এবং দেশটির ডিগ্রিগুলো ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমমান হিসেবে গণ্য করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসিলিয়ায় কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করা একমাত্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মুহতাসিম আজাদ মাসুক জানান, ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার মান অত্যন্ত উন্নত এবং সেখানে কোনো টিউশন ফি নেই। উল্টো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে সরকারিভাবে স্টাইপেন্ড বা মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। তবে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো, এখানকার অধিকাংশ পাঠদান পর্তুগিজ ভাষায় হয়। মাসুক মনে করেন, যদি বাংলাদেশে থেকেই পর্তুগিজ ভাষা শেখার প্রাথমিক সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্রাজিল হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম সেরা গন্তব্য।

শিক্ষার্থীদের এই অনাগ্রহ কাটাতে এবং তথ্যগত ঘাটতি দূর করতে সম্প্রতি ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্কলারশিপের সুবিধাগুলো প্রচারের অভাবে অনেকের কাছে পৌঁছায় না। ভাষা জটিলতা কাটাতে তারা কাজ করছেন এবং খুব শীঘ্রই ঢাকায় একটি উন্নতমানের ‘পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’ খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দেশেই ভাষা শিখে স্কলারশিপের আবেদন করতে পারবেন। রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন যে, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের শিক্ষা বিনিময়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এছাড়া ব্রাজিলের শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করতে বাংলাদেশে নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার ও প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দূতাবাসের। ফুটবল পাগল দেশ হিসেবে ব্রাজিলের প্রতি এদেশের মানুষের এমনিতেই আলাদা টান রয়েছে; এখন সেই আবেগকেও শিক্ষার প্রসারে কাজে লাগাতে চায় সরকার। দূতাবাস আশা করছে, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রটি চালু হলে এবং প্রচার বাড়লে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ১৫০টি আসনের সবকটিতেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পদচারণা বাড়বে। এতে করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ আমেরিকার উন্নত গবেষণাগার ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত