জাতীয় কবির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন শহীদ ওসমান হাদি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই বিপ্লবের বীর সেনানী এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে রাষ্ট্রীয় সম্মানে জাতীয় কবির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তার জন্য শেষ শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল থেকেই সেখানে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

জুলাই বিপ্লবের এই অগ্রনায়কের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্থানে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সহযোদ্ধারা। কবির সেই বিখ্যাত কবিতার চরণের মতোই, “মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই”—কবির সান্নিধ্যেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে যাচ্ছেন এই সময়ের সাহসী বিপ্লবী।

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে তার নিথর দেহ পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকেই ধর্মীয় আচার শেষে শোক মিছিলে করে তার কফিন নেওয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।

আজ শনিবার বাদ জোহর অর্থাৎ দুপুর ২টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম এবং কয়েক হাজার ছাত্র-জনতার সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার জন্য ইতিমধ্যেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর এই শোকাবহ অধ্যায়টি শুরু হয় গত ১২ ডিসেম্বর। ওইদিন দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় একটি গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে বর্বরোচিত হামলার শিকার হন তিনি। চলন্ত মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে একটি গুলি সরাসরি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরবর্তীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় সরকারি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশের মাটিতে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে ছাত্র-জনতা এবং তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা চোখের জলে এই বীরকে বরণ করে নেন। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কেবল একটি সংগঠনের ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ দাফনের মাধ্যমে তার দীর্ঘ লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটলেও, তার আদর্শ ও চেতনা আগামী প্রজন্মের বিপ্লবীদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ইনকিলাব মঞ্চের সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত