প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লক্ষ্মীপুরে এক নৃশংস ও অমানবিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এবং পেট্রল ঢেলে একটি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরে আটকা পড়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছে সাত বছর বয়সী এক শিশু। এছাড়া ওই পরিবারের গৃহকর্তা এবং তার আরও দুই মেয়ে শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা বেলাল হোসেন ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পেশায় একজন স্থানীয় সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো কারণে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম আয়েশা আক্তার, যে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কালীন আগুনের লেলিহান শিখায় প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বেলাল হোসেন (৫০) এবং তাঁর দুই মেয়ে বীথি আক্তার (১৭) ও স্মৃতি আক্তার (১৪)। আহতদের মধ্যে বীথি ও স্মৃতির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘরটির বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয় এবং চারদিকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে ছাই হয়ে যায়।
এই নজিরবিহীন হামলার পর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এটি কোনো সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সন্ত্রাসীরা দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এই নারকীয় ঘটনার সাথে জড়িতদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রণজিৎ কুমার দাস জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন এবং বাকিদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও আগুনের তীব্রতা দেখে নাশকতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন যে, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। ঘুমন্ত অবস্থায় একটি অবুঝ শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা শত্রুতার জেরে এই আগুন লাগিয়েছে কি না, তা বের করতে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন শোকের মাতম ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।