প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও পিটিয়ে হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ সরকার বরদাস্ত করবে না। উপদেষ্টা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘গর্হিত কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা মব জাস্টিসের নামে মানুষ হত্যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে প্রতিটি স্থাপনায় আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন কাজ। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।” ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মবকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধেই ময়মনসিংহের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে নিহতের মরদেহ গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও জানান, সরকার সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ধর্মীয় উস্কানি ছড়িয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ময়মনসিংহের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টার এই অনড় অবস্থান মূলত সাম্প্রতিক অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।