প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলার তদন্তের স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদালতকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন মেগা প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন (যারা দেশে অবস্থান করছেন) এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়াতে না পারেন, সেজন্য এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী আমলা রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার সঙ্গে এই ১৭ জনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তারা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ বা আশ্রয় নিতে জটিলতার সম্মুখীন হবেন বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এটি দুর্নীতি দমনে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।