এনসিপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
এনসিপি নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খুলনা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদার সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পরই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, মোতালেব শিকদারের অবস্থাকে আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তার চিকিৎসা দ্রুত এগোচ্ছে।

ঘটনার খবর প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি ফেসবুক পোস্টে জানান, “এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারের ওপর কিছুক্ষণ আগে গুলি চালানো হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে।” পোস্টটি মুহূর্তেই রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি, তবে সূত্র জানাচ্ছে, খুলনার পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্তে সম্পৃক্ত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি নেতার উপর প্রকাশ্য হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রার অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে ত্বরিত এবং সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের সহিংসতা কেবল এক নেতার নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনী পরিবেশের জন্যও বড় আশঙ্কার সূচনা করে।

এই হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ধারার সাথে সংযুক্ত। এর আগে ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে অটোরিকশায় থাকা শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা গুলি চালান। ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাব পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি নেতার ওপর হামলা পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক সহিংসতার একটি অংশ হতে পারে।

নিরাপত্তা সংস্থার সূত্র জানায়, রাজনৈতিক নেতা এবং সংগঠকদের ওপর প্রকাশ্য হামলা দেশে ভোটের আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে খুলনা ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের মতো রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নির্বাচনের আগে নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি সরাসরি দাবি জানাচ্ছে।

এনসিপির নেতা মোতালেব শিকদার দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ওপর হামলা শুধু ব্যক্তিগত হামলা নয়; এটি দলের কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এনসিপির ওপরও প্রভাব ফেলে। দলের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা মোতালেব শিকদারের গাড়ি লক্ষ্য করেছিল এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের প্রকাশ্য হামলা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের আগে নেতাদের ওপর হামলা শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রভাবিত করে না, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তারা মনে করছেন, সরকারের উচিত দ্রুত তদন্ত চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এনসিপি নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি উদ্বেগজনক হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যেন সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার আশঙ্কা থেকে মুক্ত থাকে, তার জন্য প্রশাসনকে কার্যকর ও সতর্ক ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে এই ধরনের ঘটনা যে কোনো পর্যায়ে সহ্য করা যাবে না।

স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক অঙ্গনের সাথে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত জরুরি।

প্রকাশ্য হামলার পর এনসিপি এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে সজাগ অবস্থান গ্রহণ করেছে। দলের নেতারা জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র নেতার নিরাপত্তার জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার জন্যও এই ঘটনার যথাযথ বিচার দাবি করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোতালেব শিকদারের ওপর হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারবে না যদি নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রশাসন দ্রুত ও সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠনগুলো আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে, হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, মোতালেব শিকদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি এড়াতে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এনসিপি নেতার ওপর প্রকাশ্য হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। এটি শুধু দলের নেতা বা সদস্যদের নয়, পুরো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের নিরাপত্তার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। জনমত, রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসন—এই তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত