ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড শোনার সময় হাসি, এরপর মুখভঙ্গি বদল সালমান-আনিসুলের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড সালমান-আনিসুলের

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মামলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমন, কারফিউ জারি এবং ছাত্র-জনতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশ জারি করার অভিযোগ তুলে প্রসিকিউশন আদালতের নজরে এনেছে।

সোমবার দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের এজলাসে হাজির করা হয় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে। এদিন আদালতের কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সহকারী প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

শুনানির শুরুতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমন করার সময় কারফিউ জারি করে ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা ও দমন করার অভিযোগের বিষয়ে আজ শুনানি হবে। তিনি আদালতকে জানিয়ে দেন, এই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে একাধিক তথ্য ও কল রেকর্ড আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এ সময় আদালতে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক নিজেদের অভিযোগ শুনে নিবিষ্ট মনোযোগে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তবে তাদের মুখে এক অদ্ভুত হাসি দেখা যায়। অভিযোগের প্রতিটি বিস্তারিত পড়ে শোনানো হলেও তারা দৃঢ় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে এক পর্যায়ে হেসে উঠেন।

পরবর্তীতে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে জানান যে, আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অডিও রেকর্ড শোনানো হবে। এই অডিওতে তাদের কথোপকথন রয়েছে, যা অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। রেকর্ডে শোনা যায়, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক একে অপরের সঙ্গে কথা বলছেন, ছাত্র ও জনতাকে দমন করার কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং কারফিউ জারি করতে বারবার অনুরোধ করছেন।

অডিও শুনতে শুরু করার পরও দুই আসামি প্রথমদিকে হাসি ও অবহেলার ভঙ্গি রাখেন। তাদের মুখে যে আত্মবিশ্বাস ও উদাসীনতার ছাপ, তা আদালতের কার্যক্রমে উপস্থিত বিচারক ও প্রসিকিউটরের নজরে পড়ে। তবে অডিওর বিষয়বস্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের হেসে থাকা ভঙ্গি মলিন হতে শুরু করে। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক ধীরে ধীরে নিজেদের কৌশল ও কথোপকথনের গুরুতরতা উপলব্ধি করতে শুরু করেন।

এই অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপনের পরে চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, “এই দুই আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আদালতকে আবেদন করা হলো।” এরপর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত দেন।

এর আগে চলতি বছরের চার ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমন করার জন্য তারা কারফিউ জারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উসকানি দেওয়া এবং ছাত্র-জনতাকে হত্যার জন্য নির্দেশ জারি করেছেন। এই সমস্ত কার্যক্রমে তাদের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসামিদের আদালতে হাসি ও পরে মুখের ভঙ্গি পরিবর্তন একটি মানসিক প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ। এটি প্রমাণ করে যে, অডিও রেকর্ড শোনার সময়ে তারা তাদের কর্মকাণ্ডের গুরুতরতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন। এটি আদালতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আসামিদের প্রতিক্রিয়া বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।

শুনানির সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও আদালত পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, আদালতে এই ধরনের অডিও প্রমাণ শোনানো আসামিদের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া এবং তাদের দায়িত্বের স্বীকৃতি বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের এই আচরণ বিচারকের নজরে এসেছে এবং তাদের দায়ের গুরুতরতা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য একটি মানসিক প্রভাব তৈরি করেছে।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সরকারের পতনের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছিল, তার প্রমাণগুলো আদালতের মাধ্যমে উঠে আসছে। আসামিদের নিজের কল রেকর্ড শুনে আচরণ পরিবর্তন করা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও তথ্যের গুরুত্বকেই ফুটিয়ে তোলে।

এদিকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অভিযোগ গঠনের পর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী বিচার কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেছে। আগামী শুনানিতে তারা তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে কৌশলগত বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন। প্রসিকিউশন ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি উপস্থাপন শুরু করেছে।

সংক্ষেপে, সোমবারের ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের আচরণ এই মামলার গুরুত্ব ও প্রমাণের স্পষ্টতা তুলে ধরেছে। নিজের কল রেকর্ড শোনার সময় হাসি এবং পরে মলিন হওয়া মুখভঙ্গি তাদের কার্যকলাপের গুরুতরতা আদালতের সামনে প্রকাশ করেছে। এই মামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে বিচার প্রক্রিয়া ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত