৭ ঘণ্টায় অনুদানে সাড়া, তাসনিম জারার তহবিলে ১২ লাখ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
৭ ঘণ্টায় তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিলে ১২ লাখ

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে নাগরিক অনুদানভিত্তিক নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ। এই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে তার নির্বাচনী তহবিলে ১২ লাখ টাকারও বেশি অনুদান জমা পড়েছে—যা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক ব্যতিক্রমী ও নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি লেখেন, মাত্র সাত ঘণ্টায় দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ যে বিপুল সাড়া দিয়েছেন, তা তার এবং তার দলের কল্পনারও বাইরে ছিল। তিনি এই অনুদানকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই সমর্থন নতুন ধরনের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা আরও লেখেন, ‘মাত্র ৭ ঘণ্টায় আপনারা ১২ লাখ টাকারও বেশি পাঠিয়েছেন। এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অনুদানদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে সম্মান জানান।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তাসনিম জারা বলেন, তাদের নির্ধারিত মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। তবে এই পুরো অঙ্ক সংগ্রহ করাই উদ্দেশ্য নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই তহবিল সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি ও তার দল আগ্রহী নন। এই অবস্থানকে অনেকেই নির্বাচনী ব্যয় ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা হিসেবে দেখছেন।

তাসনিম জারা তার পোস্টে আরও জানান, অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তারা খোলাখুলিভাবে জনগণকে জানাচ্ছেন। তিনি লেখেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লেনদেন সীমা অতিক্রম করার কারণে বিকাশের মাধ্যমে আর অর্থ পাঠানো যাচ্ছে না। তবে আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা হচ্ছে। এই তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি দাতাদের বিভ্রান্তি দূর করার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন তাসনিম জারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তিনি নাগরিকদের কাছে সহায়তা চান। তার আহ্বানের মূল সুর ছিল—এই নির্বাচন যেন কেবল অর্থশালী গোষ্ঠীর নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। তার এই বার্তা অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সাড়া দেন।

সোমবার দিবাগত রাতে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তাসনিম জারা আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে আরও জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘আপনাদের আগেই বলেছি আমরা স্বচ্ছভাবে টাকা উত্তোলন ও খরচ করবো। তাই আপনাদের সঙ্গে স্ক্রিনশট শেয়ার করছি।’ তিনি জানান, যে দুটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেগুলো শূন্য ব্যালেন্স থেকে শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে সাধারণত বড় অঙ্কের ব্যয়, কালো টাকা এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে তাসনিম জারার এই উদ্যোগ নাগরিক-ভিত্তিক রাজনীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং নগরভিত্তিক শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে এই ধরনের স্বচ্ছ তহবিল সংগ্রহ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর এই কৌশল ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রার্থীর জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে একদিকে যেমন নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোট ও অনুদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে পারবে।

তাসনিম জারা নিজেও একাধিক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, এই অনুদান সংগ্রহের প্রতিটি ধাপ তিনি জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখতে চান। তার মতে, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে ওঠে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। তাই নির্বাচনী প্রচারে কত টাকা আসছে, কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে—সবকিছুই জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

ঢাকা-৯ আসনে তার প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে। একজন চিকিৎসক, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তার পরিচিতি এই অনুদান সংগ্রহের সাফল্যের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। অনেকেই এটিকে ‘ছোট অনুদানের বড় শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

সাত ঘণ্টায় ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান শুধু একটি সংখ্যাই নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও আস্থার যে বার্তা এই উদ্যোগ দিয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিকশিত হয়—সেদিকেই এখন সবার নজর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত