মঙ্গোলিয়া সীমান্তে চীনের শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার
মঙ্গোলিয়া সীমান্তে চীনের শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মঙ্গোলিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় চীন নীরবভাবে ১০০টিরও বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি খসড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে চীনের পারমাণবিক শক্তি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের গতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুনভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা নিয়ে বেইজিংয়ের আগ্রহ এখনও সীমিত, যা বৈশ্বিক পারমাণবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

পেন্টাগনের তথ্যমতে, বিশ্বের অন্য যেকোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় চীন সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বেইজিং দাবি করেছে, এ ধরনের রিপোর্ট চীনকে কলঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনের নতুন তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো ফিল্ডে মোট ১০০টিরও বেশি সলিড-ফুয়েল ডিএফ-৩১ আইসিবিএম স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে এসব সাইলো ফিল্ডের অস্তিত্ব জানা থাকলেও এবারই প্রথম নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা প্রকাশিত হলো।

নতুন মোতায়েনকৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের হিসেবে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা আনুমানিক ৬০০-এর কিছু বেশি। যদিও উৎপাদনের গতি কিছুটা কমেছে, তবুও সামগ্রিক সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। পেন্টাগনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চীন সবসময় দাবি করে আসছে যে তারা আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক নীতি অনুসরণ করে এবং ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতিতে অটল থাকে, অর্থাৎ প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তবে পেন্টাগনের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, চীনের পারমাণবিক ক্ষমতার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সাইলো ফিল্ডগুলোর স্থাপন প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

প্রতিবেদনে তাইওয়ান প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মনে করছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতে জয়ী হওয়ার সামরিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পেন্টাগন আশা করছে, বৈশ্বিক কূটনীতি এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা চীনের সামরিক আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু এখন পর্যন্ত বেইজিংয়ের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যায়নি।

এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক ক্ষমতার ভারসাম্য, নিরাপত্তা কৌশল এবং কূটনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

চীনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের খবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে সচেষ্ট। এর মধ্য দিয়ে চীনের পারমাণবিক সামরিক আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণ কেবল দেশীয় নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

চীনের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নে ফেলেছে, বিশেষত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা সম্পর্কিত আলোচনায় বেইজিংয়ের অবস্থানকে কেন্দ্র করে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে তা বিশ্বমঞ্চে নতুন বিতর্ক এবং নিরাপত্তা আলোচনা শুরু করেছে। মঙ্গোলিয়া সীমান্তের এই সাইলো ফিল্ডে আইসিবিএম মোতায়েন কেবল চীনের সামরিক সক্ষমতাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত