খুলনায় গুলির ঘটনায় এনসিপি নেতার বান্ধবী আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
জাতীয় শ্রমিক শক্তির খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদার

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

খুলনায় জাতীয় শ্রমিক শক্তির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় পুলিশ তার বান্ধবী তনিমা তন্বিকে আটক করেছে। সোমবার দুপুরে ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ডিবির ওসি তৈমুর ইসলাম রাত সোয়া ১০টায় আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্তারিত তথ্য পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করা হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোতালেবকে সোমবার দুপুরে তার ভাড়া বাসায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, এরপরই এই ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে তার বান্ধবীকে আটক করা হয়।

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলিবিদ্ধ মোতালেবের স্ত্রী ফাহিমা তাসলিম ঝুমুর সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামীকে কেন এবং কারা গুলি করেছে তা এখনো রহস্যের আড়ালে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, তনিমা তন্বি এবং তার স্বামী মিরাজকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ বের হওয়া সম্ভব হবে।

ঝুমুর বলেন, তার স্বামী রোববার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে যান। এরপর তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। সোমবার সকালে তারা জানতে পারেন, মোতালেবকে গুলি করা হয়েছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শনাক্তকরণ করা হোক।

প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঝুমুর আরও বলেন, “আমাদের পরিবার আতঙ্কিত এবং আমরা চাই, ঘটনার সমস্ত তথ্য দ্রুত বেরিয়ে আসুক। যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা এ কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” তিনি আশ্বস্ত করেন, তদন্তের প্রতি পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

ডিবি সূত্র জানায়, মোতালেব শিকদারের ওপর হামলা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলমান। পুলিশ আশা করছে, তনিমা তন্বি এবং তার স্বামী মিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি নেতার ওপর এই ধরনের হামলা কেবল ব্যক্তি বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ না, বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ক্ষমতার খেলা নিয়েও সম্পর্কিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশি তৎপরতা এবং সুষ্ঠু তদন্ত অপরিহার্য।

স্থানীয় মানুষও এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং আক্রান্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ থেকে তদন্তে কোনো অনিয়ম ঘটতে পারে। তাই তারা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, মোতালেবকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলেও, এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে তনিমা তন্বি ও মিরাজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ঘটনা খুলনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবি যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। পাশাপাশি পুলিশ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, মোতালেব শিকদার খুলনা বিভাগের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তার ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলও সরব হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই ধরনের হামলা স্থানীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পুলিশ যেন দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত শেষ করে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিবারের এ আহ্বান সমাজের কাছে একটি বার্তা দিচ্ছে, যে রাজনৈতিক সহিংসতা আর নিরাপত্তাহীনতা চরমে পৌঁছালে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত