প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গা ও দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলায় তীব্র শীতের প্রভাবে জনজীবন ভাঙচুরের পথে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় সাধারণ মানুষ কাঁপছে, আর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন পড়েছে। মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর খানসামায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তিনি বলেন, “গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। আগামী দিনগুলোতে শীত আরও বাড়তে পারে।”
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল ৯টায় খানসামার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব পড়ছে।
খানসামার ছাতিয়ানগড় গ্রামের ইপিজেড কর্মী ও মোটরসাইকেল চালক রুবেল জানিয়েছেন, ভোরে কাজে বের হওয়ার সময় কুয়াশা ও শীতের কারণে চলাচল অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। একই এলাকার মোসলেম উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে বাইরে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভ্যানচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যাত্রীর সংখ্যা কম হওয়ায় আয়ও হ্রাস পেয়েছে। বয়স্ক ফজলে রহমান বলেন, সামান্য শীতেই শরীর কাহিল হয়ে পড়ে, আর এই তীব্র শীতে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, বুধবার থেকে কুয়াশা কিছুটা কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশে একটি পূর্ণ শৈতপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা আরও শীতের প্রভাব বাড়াবে।
শীতের এই তীব্রতায় এলাকাবাসী বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময় ঘরে বাইরে বের হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কম তাপমাত্রা ও কুয়াশা অব্যাহত থাকায় যান চলাচল ও স্কুল-কলেজের কাজে প্রভাব পড়তে পারে।
চুয়াডাঙ্গা ও খানসামার শীতের এই তীব্রতা স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করেছে। ব্যবসায়ী ও কর্মীরা জানিয়েছেন, সকালে কাজের সময় কম ঘাম-মাঠে যাওয়ার কারণে আয় কমে যাচ্ছে। এছাড়া রাস্তাঘাটে চলাচলও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতজনিত রোগ যেমন সর্দি, কাশি ও ফ্লু বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চিকিৎসকেরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। ঘরের মধ্যে গরম রাখার জন্য চুলা ও হিটার ব্যবহার করছেন। স্কুল-কলেজগুলোতে শিশুদের জন্য হালকা গরম জামা-জুতা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও শীতের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা মনে করাচ্ছেন, চলতি শীতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করতে পারে। তাই শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
শীতের এই তীব্রতায় চুয়াডাঙ্গা ও খানসামার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ছাত্রছাত্রী সকলেই কাঁপছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন স্থানীয় জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও সতর্কতার প্রয়োজন।