ট্রাম্পের দাবি: গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকা উচিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আর্কটিকের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড জাতীয় নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে এ বার্তা আরও জোরালো করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ কেবল দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্বকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে না, বরং ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাতও ঘটিয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এবার লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছে, যিনি ডেনমার্ক থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং নিরাপত্তা কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তিনি বলেছেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড থাকতেই হবে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ দূতের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আমাদের স্বার্থের সুরক্ষা হবে।” ট্রাম্পের মতে, বিষয়টি খনিজ সম্পদের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথে সম্ভাব্য চীনা ও রুশ হুমকি রোধে দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ।

ডেনমার্ক এই পদক্ষেপকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লকে রাসমুসেন জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চাইবে। তিনি বলেছেন, “ডেনমার্ক, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হওয়ার কোনো পদক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।”

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসীর। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী, তবে তা পারস্পরিক সম্মান ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে হতে হবে।”

বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার লক্ষ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মানিত বোধ করছেন। এর আগে তিনি প্রকাশ্যে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবও তিনি করেছিলেন, যা ২০১৯ সালে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিশেষ দূত নিয়োগের মাধ্যমে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় এবং বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ ও খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার বাড়ায় এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ১৯৭৯ সাল থেকে দ্বীপে স্বশাসন থাকলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, বহু গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে বিরোধিতা রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে এক ধরনের কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে নতুন করে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত