বাংলাদেশ-পাকিস্তান ইস্যুতে নীরব থাকবেন না মোদি: বিজেপি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭১ বার

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও পাকিস্তান সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে নীরব থাকবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা সুনীল শর্মা। জম্মু–কাশ্মীরের কিশতওয়ারে হিন্দু সংগঠনগুলোর ডাকা এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই বক্তব্য রাখেন তিনি। সমাবেশটি আয়োজন করা হয় বাংলাদেশে হিন্দু শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য।

বিজেপি বিধায়ক ও জম্মু–কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শর্মা বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং হত্যাকাণ্ড ভারতের কাছে উসকানিমূলক। তিনি দাবি করেন, কিছু রাষ্ট্র ভারতের ক্ষতি করতে ষড়যন্ত্র করছে, যাতে বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। শর্মার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও প্রধানমন্ত্রী মোদির নীতি ও শক্তিকে ভয় পায়। তিনি বলেন, মোদি বিশেষভাবে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য আশার প্রতীক।

সমাবেশে সনাতন ধর্ম সভার সভাপতি মহন্ত রাম শরণ দাস আচার্যের নেতৃত্বে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সম্পত্তি ও উপাসনালয় রক্ষার জন্য স্মারকলিপি জমা দেন। পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। সমাবেশ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করা হয় এবং সনাতন ধর্ম সভার ডাক দেওয়ায় কিশতওয়ার শহরের কিছু দোকানপাট বন্ধ ছিল।

শর্মা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের নিহত দীপু হিন্দু সংখ্যালঘু হওয়ায়ই হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একই ধরনের চ্যালেঞ্জ ভারতের ভেতরেও দেখা যাচ্ছে। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এছাড়া শর্মা প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কেন নীরব। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং সেখানে বিক্ষোভের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ—যে কোনো বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি নীরব থাকবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সমাবেশ ও বিজেপির বক্তব্য ভারতের দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এছাড়া, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং কৌশলগত নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তা প্রেরণেও সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শর্মার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি শুধু দেশীয় নিরাপত্তা নয়, প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। এ ধরনের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রভাবই নয়, বরং ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্ব বহন করে।

সমাবেশ শেষে শর্মা এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা ডেপুটি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

বিজেপির এই পদক্ষেপ ভারতের ভেতর ও প্রতিবেশী অঞ্চলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক বার্তা প্রেরণের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য বহন করে। শর্মার মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপে বিশ্বাসী এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি এই বিষয়ে নীরব থাকবেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত