ভবিষ্যতের জন্য লড়াই: চিকিৎসা ও পুনর্বাসনবঞ্চিত জুলাইযোদ্ধাদের পাশে এনসিপি’র তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৯ বার
ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব প্রতিবেদক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

২০২৫ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত, পঙ্গু কিংবা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমন বহু সাহসী তরুণ-তরুণী এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সরকারি প্রতিশ্রুত সেবার আওতায় আসতে পারেননি। তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এক মানবিক আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব অবহেলিত ও বঞ্চিত ‘জুলাইযোদ্ধা’র একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে দিলে, তা সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে তার দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাসনিম জারা বলেন, “চিকিৎসা খরচ ও অন্যান্য সেবা নিয়ে সরকারের যেসব প্রতিশ্রুতি ছিল, তা অনেকেই এখনও পাননি। অনেকে বলছেন—ক্যাটাগরি সমস্যা, চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা বা আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার কথা। এরকম নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। অথচ এই সহায়তাগুলো তাদের প্রাপ্য ছিল, এবং সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এখনো চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যারা মনঃসমীক্ষণ বা শারীরিক পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন, যারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন না কিংবা কর্মজীবনে ফিরতে পারছেন না—তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা দরকার। সেই তালিকা যদি আপনাদের মধ্য থেকেই একজন দায়িত্ব নিয়ে তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নেব।”

তাসনিম জারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “লং টার্ম চিকিৎসা শুধু অপারেশন না, শারীরিক রিহ্যাবিলিটেশন দরকার অনেকের। কারও কারও চোখে সমস্যা, কারও হাতে-পায়ে স্থায়ী জখম। কেউ আগের মতো করে হাঁটতে পারেন না, কেউ আর আগের মতো পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। আবার অনেকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে, চিকিৎসা না পেলে তারা হয়তো আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। অথচ সরকার এসব ক্ষেত্রেও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তব চিত্র এসব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মিলছে না। বলেন, “আপনারা হাসপাতালে গেলে বলা হয়—আপনাদের সেবা টপ প্রায়োরিটি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কোথায় যাবেন, কীভাবে পাবেন—তা কেউ ঠিকমতো বলে না। কেউ এক্স-রে করতে পাঠায় এক জায়গায়, ওষুধের জন্য যেতে হয় অন্য জায়গায়। কেউ কোথায় ইনভেস্টিগেশন হবে তাও জানেন না। ফলে একজন আহত ও দুর্বল মানুষকে ঘুরতে হয় দপ্তর থেকে দপ্তরে, যা নিঃসন্দেহে অমানবিক।”

তাসনিম জারা বলেন, “আমরা যতবার সুযোগ পেয়েছি, সরকারের বিভিন্ন মহলে এসব সমস্যা তুলে ধরেছি। আবারও বলছি—আপনারা যদি নিজ দায়িত্বে সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করেন, তাহলে আমরা বিষয়টি যথাযথ চ্যানেলে উপস্থাপন করব এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনের সৈনিকদের এখন আরেকটি লড়াই লড়তে হচ্ছে—নিজের বেঁচে থাকার, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ে তাদের একা ফেলে দেওয়া যায় না। সমাজ, রাজনীতি এবং রাষ্ট্র—সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।”

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের একাংশ কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও যুদ্ধ করে চলেছেন। অনেকেই ভেঙে পড়েছেন, কেউ কেউ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন সীমিত সাধ্যে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে ডা. তাসনিম জারার এমন মানবিক উদ্যোগ এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রমাণ হয় তখনই, যখন রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও আহত মানুষদের পাশে নিরপেক্ষভাবে দাঁড়ানো যায়। সরকার যদি সত্যিই এই সাহসী তরুণ-তরুণীদের বলিষ্ঠ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চায়, তবে কেবল নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে। কারণ, তারা কেবল জুলাইয়ের যোদ্ধা নন—তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত