শিবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ২৯ মোবাইল জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
শিবগঞ্জ সীমান্তে ভারত থেকে আসা ২৯ মোবাইল জব্দ

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে ভারত থেকে আসা ২৯টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছিয়াত্তর বিঘা গ্রামের একটি আমবাগান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া মোবাইল ফোন জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধীন কিরনগঞ্জ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত পিলার ১৭৮/২-এস থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিয়াত্তর বিঘা গ্রাম থেকে বিভিন্ন মডেলের ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে রাতের অন্ধকার ও ঘন কুয়াশার সুবিধা নিয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চোরাচালান দমনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাকারবারীরা রাতের অন্ধকার ও কুয়াশার সুবিধা নিয়ে প্রায়শই অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এমন ঘটনায় বিজিবির তৎপরতা চোরাচালান দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চোরাই মোবাইল ফোন জব্দের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক হয়েছে। বিজিবি অভিযান চালানোর পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে অনভিজ্ঞ বা স্থানীয় যুবকদের চোরাকারবারীদের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে, যা প্রতিরোধের জন্য বিজিবি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

জব্দ হওয়া মোবাইল ফোনগুলো প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন মডেলের, যা ভারত থেকে অবৈধ পথে প্রবেশ করানো হয়েছিল। বিজিবি সূত্র জানায়, মোবাইলগুলো কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। চোরাকারবারীদের ধরতে বিজিবি তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অভিযান চোরাচালান দমনের ক্ষেত্রে বিজিবির কার্যকারিতা ও সীমান্ত নিরাপত্তার গুরুত্ব প্রমাণ করে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি যৌথভাবে কাজ করে সীমান্তবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। জব্দ হওয়া মোবাইল ফোনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল অভিযান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিজিবি এই নীতি অব্যাহত রাখলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা চোরাকারবারীদের জন্য এখনও সংবেদনশীল এলাকা। বিজিবির তৎপরতা, নিয়মিত টহল অভিযান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা মিলিতভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনও নিয়মিতভাবে অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে চোরাচালানের ঘটনা আরও কমানো যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত