তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে শান্ত ও শালীন আচরণের আহ্বান রিজভীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯২ বার
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে শান্ত ও শালীন আচরণের আহ্বান রিজভীর

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। প্রায় সতেরো বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তেজনা, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ। এই প্রেক্ষাপটে সবাইকে শান্ত, সংযত ও সুষ্ঠু আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একটি মিছিল শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা একটি রাজনৈতিক ও মানবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ উপলক্ষে যেন কোথাও বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই এই প্রত্যাবর্তন হোক শান্তিপূর্ণ, শালীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে।”

রিজভীর বক্তব্যে উঠে আসে তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের পটভূমি। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে এই দেশেই চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একের পর এক মিথ্যা মামলায় তাকে জড়িয়ে রাখা হয়, যাতে তিনি দেশে ফিরতে না পারেন। এসব মামলার বোঝা এতটাই ভারী ছিল যে, নিজের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর জানাজাতেও তিনি অংশ নিতে পারেননি। এই বেদনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মম দৃষ্টান্ত হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আজ ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। এটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।” তিনি জানান, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষ প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এই বিশাল জনসমাগম যেন শৃঙ্খলার মধ্যেই থাকে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী আরও বলেন, সরকার তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। বিএনপি এই আশ্বাসকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং প্রত্যাশা করছে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবেই সরকার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। তারেক রহমান দেশে পৌঁছানোর পর প্রথমেই তার চিকিৎসাধীন মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন বলেও জানান রিজভী। মায়ের সঙ্গে দেখা করা তারেক রহমানের জন্য যেমন আবেগের, তেমনি পরিবারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তিনি আরও জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে তারেক রহমান রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেবেন। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। রিজভীর ভাষায়, “আমরা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে চাই, কিন্তু সেই শক্তির প্রকাশ হবে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে।”

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক বলেই মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একজনকে দেশের বাইরে থাকতে হওয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলেও তারা মনে করছেন। তবে একই সঙ্গে বিশ্লেষকদের মত, এই প্রত্যাবর্তন যেন নতুন কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বা সংঘাতের সূত্রপাত না করে, সে দায়িত্ব যেমন বিএনপির, তেমনি রাষ্ট্র ও প্রশাসনেরও।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একটি দলের নেতা ফেরার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতির সংকট, মামলা-নির্যাতন এবং রাজনৈতিক বিভাজনের যে চিত্র দেখা গেছে, তার প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাবর্তন গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নতুন করে গতিশীল করতে পারে।

রিজভী তার বক্তব্যে আরও বলেন, বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আমাদের আচরণেই প্রমাণ করতে হবে, আমরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী।”

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে নানা প্রশ্ন ও প্রত্যাশা। কেউ দেখছেন এটিকে রাজনৈতিক ভারসাম্য ফেরার সুযোগ হিসেবে, আবার কেউ আশা করছেন, এর মাধ্যমে রাজনীতিতে সহনশীলতা ও সংলাপের পথ আরও প্রশস্ত হবে। এই প্রেক্ষাপটে রিজভীর আহ্বানকে অনেকেই সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করা—এটাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত