বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদসহ তিনজন আটক সীমান্তে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ আটক আবারও প্রমাণ করল সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কতটা তৎপর রয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত জেলা ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মানবপাচারকারীসহ মোট তিনজনকে আটক করেছে বিজিবি। ২২ ডিসেম্বর গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলমান ছিল এবং পরে আটককৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২২ ডিসেম্বর সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বিশেষ টহল অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফকিরগঞ্জ বিওপির একটি চৌকস টহল দল সীমান্ত পিলার ৩৪২-এর কাছাকাছি এলাকায় সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান শুরু করে। সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপদইল গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারা মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে উদ্ধার হওয়া মদের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা কাজ শুরু করেছে। সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে একই দিনে আরেকটি অভিযানে মানবপাচারকারীসহ তিনজনকে আটক করে বিজিবি। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন চাপসা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ৩৪৮-এর কাছ থেকে মাত্র ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের রামপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে চালানো ওই অভিযানে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তিনজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে একজন পরিচিত মানবপাচারকারী বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে। তিনি হলেন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার ভাতুরিয়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন। তাঁর সঙ্গে পাচার হতে যাওয়া আরও দুজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন একই জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর এলাকার শ্রী গবেন্দ্রর ছেলে শ্রীকৃষ্ণ রায় এবং কোমলঝালি গ্রামের কৃষ্ণ জালি। বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর্থিক লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করছে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র। এসব চক্র শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, বরং পাচার হওয়া ব্যক্তিদের জীবনও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই বাস্তবতায় বিজিবি সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মানবপাচার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

আটককৃত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনসহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া ভারতীয় মদের ক্ষেত্রেও কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির টহল ও অভিযানের কারণে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কিছুটা কমেছে। আগে প্রায়ই রাতের আঁধারে মাদক, মদ ও বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে দেখা যেত। এখন নিয়মিত টহল ও হঠাৎ অভিযানের ফলে পাচারকারীরা অনেকটাই চাপে রয়েছে। তবে তারা আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা যায়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক ব্যবসায়ী ও অনুপ্রবেশকারীদের আটক করতে তারা সর্বদা সতর্ক রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। সে কারণে সীমান্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে বিজিবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত