নরসিংদীতে নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে নির্মম হত্যা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নরসিংদীতে নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনা স্থানীয়ভাবে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এমরান ওরফে নয়ন বাবু (৩৫) নামে এক নৈশপ্রহরীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামে সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নিহত এমরান ওরফে নয়ন বাবু কেন্দুয়াব গ্রামের বাসিন্দা আমির ইসলামের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি স্থানীয় একটি পাওয়ারলোম কারখানায় নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বল্প আয়ের এই চাকরির মাধ্যমেই তিনি স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে এমরান এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তাঁর এমন করুণ মৃত্যু সহজে মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই সোমবার রাতে এমরান ডাঙ্গা ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন পাওয়ারলোমে নাইটগার্ডের দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি কারখানার ভেতর থেকে বাইরে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর কাজে ফেরেননি। বিষয়টি তখনো কারও নজরে আসেনি।

ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে সিফাত নামে অপর এক শ্রমিক কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে পাওয়ারলোমের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এমরানকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অন্য শ্রমিক ও স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় এমরানকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই এমরানের মৃত্যু হয়।

নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কেন্দুয়াব গ্রামে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এমরানের স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, তার স্বামীর হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। তিনি দাবি করেন, কামাল নামে এমরানের এক বন্ধু এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগেও ওই ব্যক্তি গভীর রাতে তাদের বাড়িতে এসে এমরানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল।

জ্যোৎস্না বেগম আরও বলেন, “আজ দুপুরে কামালের বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।” নিহতের স্ত্রীর এই অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এমরান পাওয়ারলোমে নাইটগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাতে প্রস্রাব করতে বাইরে আসার পর দুর্বৃত্তরা তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ওসি শাহেদ আল মামুন আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একজন নৈশপ্রহরী, যিনি অন্যের সম্পদ পাহারা দিতে গিয়ে নিজেই প্রাণ হারালেন, এমন ঘটনা সমাজে নিরাপত্তাহীনতার চিত্রকেই স্পষ্ট করে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, গভীর রাতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও দুর্বৃত্তরা কীভাবে পালিয়ে যেতে পারল।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। নৈশপ্রহরী ও নিরাপত্তাকর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এদিকে, পাওয়ারলোম মালিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত