মেহেরপুরে বড়দিনের প্রস্তুতিতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ব্যস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৮ বার
মেহেরপুরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের উৎসব

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মেহেরপুরের খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে সাজ-রং আর আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ২৪ ডিসেম্বরকে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। তারা বিশ্বাস করেন, বেথেলহেমের এক গোশালায় কুমারী মা মেরীর কোলে যিশুর জন্মের মধ্য দিয়ে শান্তি, প্রেম ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই বার্তাকে মনে রেখে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ দেশ ও বিশ্বের মানুষের মুক্তি ও শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবেন।

মেহেরপুর জেলায় প্রতিটি গির্জা ও খ্রিস্টান পল্লীকে উৎসবের সঙ্গে সজ্জিত করা হচ্ছে। ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হচ্ছে নানা রঙে, বাড়ির ছাদ ও গলিপথে স্থাপন করা হচ্ছে শান্তির প্রতীক ‘স্টার’। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে গির্জা সাজানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই তারা তাদের পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে প্রার্থনা ও প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

মেহেরপুর মুজিবনগর এলাকার বল্লভপুর ইম্মান্যুয়েল চার্চের কমিটির সদস্য বাবুল মল্লিক জানান, বড়দিনে তারা পারিবারিকভাবে প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন। তবে প্রতিটি গির্জার পাশে বসবে ছোট ছোট মেলা, যেখানে স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ভবেরপাড়া ক্যাথলিক চার্চের ফাদার তাপস হালদার জানান, বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা ২৪ ডিসেম্বর রাতেই শুরু হবে। রাতভর চলবে খ্রিস্টজাগ প্রার্থনা। ২৫ ডিসেম্বর সকালে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রভুর কাছে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পবিত্র বাইবেল পাঠ, মোমবাতি প্রজ্বলন এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হবে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসবকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। মেহেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ জামিনুর রহমান খান জানিয়েছেন, বড়দিন উপলক্ষে শহর ও খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা যায়।

মেহেরপুর জেলায় মোট ২৯টি গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। গির্জাগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক এলাকা, রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি গির্জার পাশে ত্রিপল ও আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ আরও মনোরম করা হয়েছে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, বড়দিনের উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও একতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। মেহেরপুরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ এ দিনটিকে উদযাপন করতে গিয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করতে চান। তাদের এই আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ, উদ্দীপনা ও মানবিকতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে।

এছাড়াও, বড়দিনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায়দের জন্য খাদ্য বিতরণ, উপহার এবং শিক্ষামূলক আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সকলে একত্রিত হয়ে এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।

মেহেরপুরে বড়দিনের উৎসবকে ঘিরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি গির্জার পাশে ছোট ছোট আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি ও শান্তির প্রতীক স্টার মানুষের মনকে আনন্দিত করছে। স্থানীয়রা বলছেন, বড়দিনের এই উৎসব সমাজে সৌহার্দ্য ও মানবিকতার বার্তা ছড়াতে সহায়তা করছে।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা আশা প্রকাশ করেছেন, বড়দিনের আনন্দ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এবং পৃথিবী থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈষম্য কমে যাক। মেহেরপুরের খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে বড়দিন উদযাপনের মধ্য দিয়ে এই বার্তাটি আরও শক্তিশালীভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

মেহেরপুরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উৎসবমুখর পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ দেশের জন্য এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তারা এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, শান্তি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত