চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হলো ১৭ তরুণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৪ বার
চাকরির প্রলোভনে পাঠানো ১৭ যুবক যুদ্ধক্ষেত্রে

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭ জন যুবক চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ভাড়াটে গোষ্ঠীর মাধ্যমে “ভিআইপি দেহরক্ষী” হিসেবে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ইউক্রেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তারা বাধ্য হয়ে রাশিয়ার পক্ষে দোনবাসের যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োজিত হয়েছেন। এই ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবকদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে এমন কাজ করা হয়েছে যা দক্ষিণ আফ্রিকার আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন পরিবার এখন আতঙ্কে দিন পার করছেন, কারণ তাদের সন্তানরা এখন মারাত্মক বিপদের মুখে আছেন।

একটি পরিবারে বাবা ডুবান্ডেলা (৫৬) জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি ২০ বছর বয়সী ছেলেকে রাশিয়ায় ভিআইপি দেহরক্ষী হিসেবে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার জন্য নাম লিখান। প্রথমে তিনি খুশি ছিলেন, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে জানতে পারেন, তার ছেলে এবং আরও ১৬ জন যুবককে জোরপূর্বক যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আমাকে জানিয়েছে, তারা এখন ইউক্রেনের দোনবাসে হিমশীতল আবহাওয়ায় সারাদিন বাঙ্কার বা প্রহরার জন্য পরিখা খনন করছে।” নিরাপত্তার কারণে ডুবান্ডেলা তার ও ছেলের প্রকৃত নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার কার্যালয়ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ভিনসেন্ট ম্যাগওয়েনিয়া বলেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “তাদের উদ্ধারের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তা থেকে তাদের নিরাপদে মুক্ত করার সব সম্ভাব্য উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জানা যায়, যুবকদেরকে বোনাস, উচ্চ বেতন ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি অজ্ঞাত ভাড়াটে গোষ্ঠী রাশিয়ায় নিয়োগ করেছে। পরে তারা বুঝতে পেরেছে যে চাকরি নয়, বরং একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার ফলে পরিবারগুলো মানসিক উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগে ভুগছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বলছে, যুবকরা এই মুহূর্তে দোনবাসের যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মক বিপদের মুখে আছে। তারা বিভিন্ন তাপমাত্রা, যুদ্ধক্ষেত্রের অশান্তি এবং মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তাদের উদ্ধার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তৎপর রয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই ঘটনাকে “মানবপাচার ও যুদ্ধক্ষেত্রে জোরপূর্বক নিয়োগ” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, তরুণদেরকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এই ধরনের ঘটনা রোধের জন্য আন্তর্জাতিক নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবারগুলো বলছে, তারা প্রত্যাশা করছেন, তাদের সন্তানরা দ্রুত নিরাপদে ফিরবে এবং যারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তারা সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা বর্তমানে এই ঘটনার ফলে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এই ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপও দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ যুবকদের উদ্ধার এবং গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

এ ঘটনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যে, যুবকরা মূলত দেহরক্ষীর চাকরির প্রলোভনে ফাঁদে পড়েছেন। তারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেছেন। পরিবার ও সমাজের জন্য এটি একটি বড় চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপদে ফিরতে পারার সম্ভাবনা ও পদক্ষেপের জন্য দুই দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা যুক্ত থাকলেও, যুবকদের মুক্তির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের প্রতি প্রার্থনা করছে এবং আশা প্রকাশ করছে যে তারা দ্রুত এবং নিরাপদে ফিরে আসবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত