ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় সহিংসতার ঘটনায় পদক্ষেপের আশ্বাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন সহিংসতায় পদক্ষেপের আশ্বাস

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতা ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস পেয়েছে। জনকূটনীতি বিষয়ক মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে জানান, ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার এইচ ই প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রণয় ভার্মা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ও রেসিডেন্সের বাইরে এবং ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে সংঘটিত ভাঙচুর এবং সহিংসতার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করছে না, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধকেও ক্ষুণ্ণ করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সরকার অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমন প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকার ঘটনা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

মহাপরিচালক আরও জানান, ভারতের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হলে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভারত জুড়ে বাংলাদেশ সম্পর্কিত সহিংস বিক্ষোভের ছবি এবং খবর প্রচলিত হয়েছে। কলকাতা, শিলিগুড়ি এবং নয়াদিল্লিসহ একাধিক শহরে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভিসা অফিস ঘিরে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। ভারতের একাধিক শহরে বাংলাদেশকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করা হয়েছে। কলকাতায় শতাধিক বিক্ষোভকারী ‘হিন্দু হুঙ্কার পদযাত্রা’ শিরোনামে পদযাত্রা করে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের দিকে মিছিল করেন। এর পাশাপাশি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক পোশাক শ্রমিক হত্যার ঘটনা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই ধরনের সহিংসতা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক রীতি ও আন্তর্জাতিক নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করে। বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে, ভারত সরকার কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী দ্রুত এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এতে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সংযোগ বজায় রয়েছে এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটবে না এবং ভারতীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এই পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত