প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) কোচ লুইস এনরিকের সঙ্গে ‘আজীবন চুক্তি’ করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৩ সালে ক্রিস্তফ গালতিয়েরকে সরিয়ে এনরিককে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন থেকেই ক্লাবটি তারকাখচিত হলেও ইউরোপের মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য অনেকটা অপেক্ষা করছিল। এনরিকের অধীনে পিএসজি দুই বছরের মধ্যে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তারা ইতিহাসের পেছনে ছুটছে না, বরং নিজেরাই নতুন ইতিহাস রচনা করছে।
গত মৌসুমে এনরিকের অধীনে পিএসজি তাদের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। এটি এমন একটি শিরোপা, যা গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্লাবটির উপর থাকা হতাশা দূর করেছে। এই সাফল্য শুধু ইউরোপে তাদের ভাবমূর্তিই পাল্টে দিয়েছে না, বরং এনরিককে ক্লাবের নতুন যুগের স্থপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪৩ ম্যাচে এনরিকের অধীনে পিএসজি ৯৮ জয়, ২৬ ড্র ও মাত্র ১৯ হার অর্জন করেছে। জয়ের হার ৬৮.৫৩ শতাংশ, যা ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের প্রতিফলন।
পিএসজি সম্প্রতি ফ্লামেঙ্গোকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছে। তবে চলতি বছরে ক্লাব বিশ্বকাপে চেলসির সঙ্গে ফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা এনরিকের সাফল্যের ওপর বড় ছাপ ফেলতে পারেনি। এনরিকের অধীনে দলে কড়া নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নামী খেলোয়াড়দেরও দলের নীতি ও ভারসাম্যের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। একক সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাওয়া এনরিকের দল পরিচালনায় ভারসাম্য আনতে সহায়ক হয়েছে।
বর্তমান চুক্তি ২০২৭ সালে শেষ হলেও পিএসজি ইতিমধ্যেই তার ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাইছে। ক্লাবের শীর্ষ কর্তারা এমন চুক্তি বিবেচনা করছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে অদ্বিতীয় হবে। এনরিককে পিএসজির দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া দর্শনের অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাওয়াই মূল লক্ষ্য। ক্লাব কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে এনরিক দলকে কঠোর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে পরিচালনা করছেন।
২০২৫ সালে ক্লাবের সাফল্য নিয়ে এনরিক বলেন, “এটা ক্লাবের জন্য ঐতিহাসিক বছর। যদিও মৌসুম শেষে পূর্ণ মূল্যায়ন করা হয়, তবুও এই বছরের সাফল্য স্পষ্ট। প্যারিসবাসী এবং ক্লাব—উভয়ের জন্যই এটি বিশেষ। আমরা খুশি, এবং বড়দিনের ছুটি উপভোগ করব। ছুটির পর আবার ফিরব এবং বাকি মৌসুম নিয়ে ভাবব।”
এনরিকের কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত। তিনি নামী খেলোয়াড়দেরও দলের নীতি অনুসারে পরিচালনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, উসমান দেম্বেলে এই কোচের অধীনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। আবার কিছু খেলোয়াড়, যেমন ব্র্যাডলি বারকোলা ও খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া, শৃঙ্খলার গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।
পিএসজি সামনে দুইটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রথমত, এনরিকের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, যা ‘আজীবন চুক্তি’ আকারে আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। দ্বিতীয়ত, মূল খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক সাফল্যের কঠোর যাত্রায় সম্পৃক্ত রাখা। ধারাবাহিক সাফল্য মানেই ক্লাবের ওপর বাড়তি নজর, যা পরিচালনায় কঠোরতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।
এনরিকের অধীনে পিএসজি শুধু ফলাফলেই নয়, দলগত মানসিকতা ও দায়িত্ববোধে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ক্লাবের সংস্কৃতি, কঠোর পরিশ্রম এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এনরিকের পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ। পিএসজি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ক্লাবের নতুন যুগে এনরিককে কেন্দ্রবিন্দু করে দল আরও সুসংহত ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে।