ঝালকাঠির লঞ্চ অগ্নিকাণ্ড: ৪ বছরের দুঃসহ স্মৃতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
যাত্রীবাহী লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের চার বছর

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ ২৪ ডিসেম্বর, ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার বছর পূর্ণ হলো। ২০২১ সালের এই দিনে ভোররাতে ঢাকার বরগুনাগামী তিনতলা লঞ্চ ‘অভিযান-১০’ তীব্র আগুনে দগ্ধ হয়ে অর্ধশত যাত্রী প্রাণ হারান। ওই ভয়ঙ্কর রাতের স্মৃতি এখনও ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলেছে।

জানা যায়, রাত সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন নারী ও শিশু সহ প্রায় ৫০ জন। নদীতে ঝাঁপিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন আরও শতাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্মী, যারা বিভিন্ন আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়। নিহতদের অধিকাংশই বরগুনার বাসিন্দা ছিলেন, যারা সপ্তাহের শেষ দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো হলো না বহু মানুষের।

ঝালকাঠি লঞ্চঘাট, দিয়াকুলের চর, কলেজ খেয়াঘাট, স্থানীয় হাসপাতাল এবং লাশকাটা ঘর—সব জায়গাতেই ছড়িয়ে ছিল নিহতদের পরিবারের আহাজারি। এই দুর্ঘটনা নৌযান নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এনেছিল। চার বছর পেরিয়ে গেলেও ‘অভিযান-১০’-এর সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি এখনো কাঁদিয়ে যায়।

উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় খেয়াপাড়ের অসংখ্য মাঝি। দিয়াকুল গ্রামের আলিম হোসেন বলেন, “আমি এখনও ঘুমের মধ্যে লাফিয়ে উঠি। চোখের সামনে মানুষ পুড়ে মরতে দেখেছি। এমন ভয়াবহ মৃত্যু আমার জীবনে আর দেখিনি। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করি।”
স্থানীয় গৃহবধূ তাসলিমা বেগম জানান, “লঞ্চ থেকে দগ্ধ এবং নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া শিশুদের আমরা নিজেদের কাপড় ও খাবার দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠাই। গ্রামের মানুষ সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যতটুকু সম্ভব সাহায্য করেছি। তবে সেই ভয়াল স্মৃতি আমরা কখনো ভুলতে পারব না।”

সামাজিক সংগঠনগুলোও উদ্ধার ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। স্থানীয় কোয়ান্টামের সংগঠক মাহাবুব সৈকত আক্ষেপ করে বলেন, “নৌ ফায়ার স্টেশন না থাকায় এত প্রাণহানি হয়েছিল। চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠিতে এখনও নৌ-ফায়ার স্টেশন তৈরি হয়নি।”

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে বারবার নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপনের আবেদন করেছি। নির্বাচনের কাজ শেষ হলে শিগগিরই এটি নির্মাণ হবে বলে আশা করি।”

স্মরণকালের এই অগ্নিকাণ্ড শুধু মানবিক ক্ষতি নয়, বরং নৌযান নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পুনঃপ্রমাণ করে। দুর্ঘটনার ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার, স্বজনরা এখনও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঝালকাঠি অঞ্চলের মানুষদের কাছে ‘অভিযান-১০’ এর রাতটি চিরকাল অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে। স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঝালকাঠিতে নৌযান নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত