প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এবার বড় ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সিক্রেট সার্ভিস। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই ঘটা প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংস্থার ছয় কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে নির্বাচনী প্রচারসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প স্নাইপারের গুলিতে আহত হন। সমাবেশস্থলের পাশে অবস্থিত একটি ভবনের ছাদ থেকে ওই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ট্রাম্পসহ আরও কয়েকজন আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই এক পথচারী ও হামলাকারী নিহত হন। দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে এই অভূতপূর্ব হামলা। সেদিনের ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা, উদ্বেগ এবং তদন্ত। সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক পদত্যাগ করেন এবং কংগ্রেশনাল ওভারসাইট কমিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়।
সিক্রেট সার্ভিস জানায়, বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় এবং সমন্বয়হীনতার জন্য দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ৪২ দিনের জন্য শাস্তিমূলক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয় এবং নির্দিষ্টভাবে বরখাস্তের কারণগুলো প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, নিরাপত্তা ঘাটতির জন্য সিক্রেট সার্ভিসকে দায়ী করা উচিত। তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, এবং সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সেই ভবনের ছাদে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন না করা। ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আগামী শনিবার সম্প্রচারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সিক্রেট সার্ভিসের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা শন কারান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামলার পর থেকে সংস্থাটি ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কংগ্রেশনাল ওভারসাইট বডির উপস্থাপিত ৪৬টি সুপারিশের মধ্যে ২১টি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে এবং আরও ১৬টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অবশিষ্ট নয়টি সুপারিশ সংস্থার এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় তা বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রেসিডেন্টদের ব্যক্তিগত সময় ও ভ্রমণকালীন নিরাপত্তার বিষয়েও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের মালিকানাধীন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট গলফ কোর্সগুলোতেও নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ট্রাম্পের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও হামলাকারী তাৎক্ষণিকভাবে গুলিতে নিহত হয়, তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা শুধু একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ওপর নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরও গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা, নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংস্কার ব্যবস্থা ভবিষ্যতের জন্য কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ, সহিংসতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিল বাস্তবতাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।








