তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে দুই ঘণ্টা টোলমুক্ত এক্সপ্রেসওয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৮ বার
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে এক্সপ্রেসওয়ে দুই ঘণ্টা টোলমুক্ত

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যানজট ও জনচাপ সামাল দিতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত থাকবে। এই দুই ঘণ্টা নির্ধারিত সময়ে যানবাহন কোনো ধরনের টোল পরিশোধ ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বুধবার ২৪ ডিসেম্বর বেলা তিনটার দিকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে প্রেস উইং জানায়, উল্লিখিত সময়ে ঢাকায় প্রবেশের জন্য বিমানবন্দর এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা সাধারণ যানবাহনের জন্য টোলমুক্ত রাখা হবে। মূলত তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে অতিরিক্ত জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়েই এই সাময়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো রাজধানীতে ব্যাপক সংবর্ধনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সমাবেশস্থলগুলোতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দুই ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর থেকে এটি নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই এক্সপ্রেসওয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণ সময়ে এখানে নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হয়, যা যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। তবে জাতীয় বা বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে আগে কখনো কখনো সীমিত সময়ের জন্য টোল মওকুফের নজির রয়েছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক ভোগান্তি কমানো এবং স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রাখা। রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বড় কোনো জাতীয় ঘটনার সময় যদি সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তবে বিকল্প পথ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত রাখার ফলে অনেক যানবাহন দ্রুত ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে, এতে নিচের সড়কগুলোতে চাপ তুলনামূলক কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এই উপলক্ষে রাজধানীতে যে সংবর্ধনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জনসমাগম হবে।

যানজট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে, তবে এর সঙ্গে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। তাঁদের মতে, শুধু টোল মওকুফ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি, সিগন্যাল ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার এবং বিকল্প সড়ক সম্পর্কে আগাম নির্দেশনা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ কেউ মনে করছেন, দুই ঘণ্টা টোল ফ্রি থাকায় তারা সহজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যা সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় করবে। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, টোলমুক্ত ঘোষণার ফলে ওই নির্দিষ্ট সময়ে এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হতে পারে, যা উল্টো ধীরগতির কারণও হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকা, কাকলী, বনানী, ফার্মগেট ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত থাকাকালীন সময়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনার সময় সরকারের এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বাস্তববাদিতারই প্রতিফলন। এতে একদিকে জনভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতেও বড় সমাবেশ বা জাতীয় দিবসগুলোতে এ ধরনের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা যেমন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রশাসনিক ও নগর ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দুই ঘণ্টা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারই একটি অংশ। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয় এবং রাজধানীবাসী কতটা স্বস্তি পায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত