প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক অঙ্গনে আলোচিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার। রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন। সংগঠনের নীতিনির্ধারণী কাঠামো, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সকাল আটটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের সূচনা ঘোষণা করা হবে। এরপর দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ মেহমান, বরেণ্য অতিথি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলাররা বক্তব্য রাখবেন। সংগঠনের আদর্শিক দিকনির্দেশনা, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজের ভূমিকা, শিক্ষাঙ্গনে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। দুপুর একটায় প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বল্প বিরতির পর দুপুর দুইটা থেকে শুরু হবে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন। এ অধিবেশনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন এবং সেক্রেটারি জেনারেল মনোনয়ন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদায়ী নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও আগামী দিনের লক্ষ্য তুলে ধরে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করা হবে। দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবারের সম্মেলন সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্মেলন কেন্দ্রে আগত সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করবে। একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সময়ানুবর্তিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন মূলত সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এখানে সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সাংগঠনিক শক্তি ও দুর্বলতা, শিক্ষাঙ্গনে চলমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রশিবির একটি আলোচিত নাম হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন ও ঘোষিত কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, ক্যাম্পাস রাজনীতির পরিবর্তনশীল ধারা এবং তরুণদের চিন্তাভাবনার রূপান্তর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ অবস্থায় ছাত্রশিবিরের মতো একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে শুধু অভ্যন্তরীণ আয়োজন হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর ছাত্ররাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশেষ করে নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কী হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনের নানা মহলে কৌতূহল রয়েছে।
সংগঠন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট, নৈতিক অবক্ষয়, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে তরুণদের চ্যালেঞ্জ, কর্মসংস্থান ও মূল্যবোধের প্রশ্ন বিশেষভাবে আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট, ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়েও অতিথি বক্তারা মতামত তুলে ধরতে পারেন।
ছাত্রশিবিরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন সব সময়ই সংগঠনের জন্য একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণ, সদস্যদের মধ্যে ঐক্য ও উদ্দীপনা তৈরি এবং আদর্শিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এ সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম। সে কারণেই সারা দেশের সদস্যরা দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্মেলন কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে সদস্যদের আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন সম্পন্ন হবে এবং এটি সংগঠনের ভবিষ্যৎ পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন–২০২৫ কেবল একটি সাংগঠনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের ছাত্ররাজনীতি ও তরুণ সমাজের ভাবনাচিন্তায় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবারের এ সম্মেলনের দিকে তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষাঙ্গন ও সাধারণ মানুষের নজর থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।