পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়াল ইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৪ বার
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়াল ইসি

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এই সিদ্ধান্তকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসির সিনিয়র সচিব জানান, এর আগে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের শেষ সময়সীমা ছিল ২৫ ডিসেম্বর। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখনো যারা নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত ভোটার, কর্মসূত্রে দূরে থাকা নাগরিক এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা ভোটাররা যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান, সে বিষয়টি কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ চালুর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটারদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও নিরাপদ একটি বিকল্প ভোটিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও কর্মজীবী ভোটারদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সময় বাড়ানোর ফলে আরও বেশি ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্রকে শক্তিশালী করবে।

ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে আগামী শনিবার তফসিলি ব্যাংকগুলো খোলা রাখার জন্য। তার ভাষায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন রয়েছে। এসব লেনদেনে যেন সম্ভাব্য প্রার্থী কিংবা তাদের প্রতিনিধিরা কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ভোটার তালিকা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ভোট প্রদানের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে। পোস্টাল ভোটের সময় বাড়ানো সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসির সিনিয়র সচিব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখভাল করবে কিনা—এ প্রসঙ্গে বলেন, এ ধরনের বিষয় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার দেখবেন। নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই আচরণবিধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি জানান।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও প্রবাসী ভোটারদের কাছ থেকে আগ্রহের কথা জানা যাচ্ছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে না পারায় সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সময় বাড়ানোয় এখন আরও বেশি ভোটার এই ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় পোস্টাল ভোট একটি তুলনামূলক নতুন ধারণা হলেও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে এর গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী অনেক দেশেই প্রবাসী ও দূরবর্তী ভোটারদের জন্য ডাকযোগে কিংবা ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে ভোট প্রদানের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থার উন্নয়ন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আধুনিক ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে নির্বাচন কমিশন বারবারই বলছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও ভোটারদের আস্থা অর্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো সেই লক্ষ্য অর্জনেরই একটি অংশ। কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক যোগ্য ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন এবং নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত