প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর গুলশানে তার বাসভবনের সামনে আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় বাড়তে থাকে এবং পুরো এলাকা পরিণত হয় রাজনৈতিক স্লোগান, আবেগ ও প্রত্যাশার এক প্রাণবন্ত দৃশ্যে।
দুপুরের পর থেকেই গুলশানের ওই সড়কে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা নানা ধরনের স্লোগানে মুখর করে তোলেন এলাকা। ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারেক রহমান আসছে, রাজপথ কাঁপছে’—এমন স্লোগানে বারবার প্রতিধ্বনিত হয় চারপাশ। অনেক নেতাকর্মী দলীয় পতাকা হাতে, কেউ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে, আবার কেউ ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল সহকারে সেখানে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে স্বচক্ষে দেখার আশায় অনেকের চোখে ছিল আবেগ, মুখে ছিল উচ্ছ্বাস।
গুলশানের বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীকেও দেখা যায়। বিশেষ করে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থর অনুসারীদের উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সংহতির ইঙ্গিত হিসেবেও কেউ কেউ দেখছেন।
নেতাকর্মীদের ভিড় ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলশানের ওই বাসভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বাসভবনের সামনের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, তবে পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে লন্ডন থেকে ঢাকায় আসা তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনে পৌঁছান। তাদের আগমনকে কেন্দ্র করেও সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। পরে তারেক রহমানের লাগেজ ও অন্যান্য মালামাল ওই বাসভবনে আনা হয়, যা থেকে অনেকেই ধারণা করছেন, খুব শিগগিরই তিনি নিজেও সেখানে পৌঁছাবেন।
তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৭ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে বিএনপির নেতারা দাবি করে আসছেন। তার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে যেমন নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও ফিরে এসেছে আশার আলো।
নেতাকর্মীদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা এই দিনটির অপেক্ষা করেছেন। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রিয় নেতাকে আবার দেশের মাটিতে ফিরে পেয়ে তারা নতুন করে সাহস ও শক্তি পাচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুলশানের বাসভবনের সামনে নেতাকর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং এটি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও আবেগী সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি দেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের অবস্থান ও প্রভাবের একটি দৃশ্যমান প্রমাণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিন পর তার সরাসরি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সমাগম একটি দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মিলনের প্রতীক। পরিবার, সহকর্মী ও সমর্থকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা একজন নেতার দেশে ফেরা যেমন ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার অনুসারীদের জন্যও এটি আবেগের মুহূর্ত। গুলশানের বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া মানুষের মুখে সেই আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছিল।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে গুলশানের বাসভবনের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উল্লেখযোগ্য দৃশ্য হিসেবে ধরা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সমাগম ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দিকনির্দেশনার ইঙ্গিতও বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার দৃষ্টি তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি, তার বক্তব্য এবং আগামী দিনে তিনি কীভাবে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন, সেদিকেই নিবদ্ধ।