নবী (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদলে দেশ গড়ার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার
বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধ: নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরে গণসংবর্ধনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারের আদর্শ অনুসরণ করেই তিনি দেশ গড়তে চান। তিনি বলেন, “নবী (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদলে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়বো। সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার।” বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এসব কথা বলেন। তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা, দৃঢ়তা এবং ভবিষ্যৎ পথচলার অঙ্গীকার।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় এবং আপনাদের দোয়ায় আজ আমি মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।” এই বক্তব্যের পরপরই উপস্থিত লাখো মানুষের কণ্ঠে ওঠে স্লোগান ও করতালি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখতে পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পরপরই জনতার উপস্থিতি জনস্রোতে রূপ নেয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কুড়িল-বিশ্বরোড হয়ে বসুন্ধরার ৩০০ ফিট সড়ক পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নেন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে মানুষ স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন, কেউ কেউ দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় পৌঁছেছেন শুধু এক নজর তারেক রহমানকে দেখার আশায়।

বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমান গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছালে পুরো এলাকা করতালি ও স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। আজ তার দেশে ফেরা শুধু বিএনপির জন্য নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।

গণসংবর্ধনার ভাষণে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে নানা বৈষম্য, অবিচার ও অধিকারহীনতার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, নবী (সা.)-এর জীবন থেকে ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে একটি রাষ্ট্র গড়া সম্ভব। তার মতে, একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং সাধারণ মানুষ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পায়। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে যারা রাজপথে থেকেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মামলা ও কারাবরণ করেছেন—তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই গণসংবর্ধনা ছিল আবেগে ভরপুর। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে তারেক রহমান ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের কঠিন সময় পার করেছেন বলে মনে করেন তার ঘনিষ্ঠরা। আজকের এই সমাবেশ সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের এক আবেগঘন সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন তারা। অনেক নেতাকর্মী বলেন, তার দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তারা নতুন করে সাহস ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বার্তা বহন করছে। নবী (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শকে সামনে রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলা একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে আনে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার কৌশল ও অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গণসংবর্ধনা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিপুল জনসমাগম সত্ত্বেও কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, নবী (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে দেশ গড়ার আহ্বান দিয়ে তারেক রহমানের এই ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ পথচলার একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর তার এই প্রত্যাবর্তন ও ভাষণ দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি তার পরবর্তী কর্মসূচি, রাজনৈতিক কৌশল এবং তিনি কীভাবে এই আদর্শকে বাস্তব রাজনীতিতে রূপ দিতে চান—সেই দিকেই নিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত