আধিপত্য বিরোধে ফরিদপুরে বিএনপি নেতা খুন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮২ বার
আধিপত্য বিরোধে ফরিদপুরে বিএনপি নেতা খুন

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিএনপি নেতা সাইফুল সরদার (৪৫) নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন সাইফুল। তিনি উপজেলার ব্রাহ্মণ জাটি গ্রামের হবি সর্দারের ছেলে। ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে তৎক্ষণাৎ তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

সাইফুলের চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হামলায় আরেক ব্যক্তি ইসমাইল মোল্লা গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামলাকারীরা ওই এলাকায় আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইফুলের সঙ্গে জুয়েল মিয়ার বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। বিরোধের জেরে জুয়েল ও তার সহযোগীরা গভীর রাতে পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে সাইফুলের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন সাইফুলের দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ইলমা খানম। তিনি বলেন, “জুয়েল ও তার সহযোগীরা বাবার ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। খবর পেয়ে লোকজন ছুটে আসে, কিন্তু সময়মতো সাহায্য আসার আগে বাবাকে গুরুতর আহত করে।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুখালী সার্কেলের এএসপি আজম খান। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে আটক করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, “স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে একই গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে ছিল। এর সমাধান না হওয়ায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের নেতা সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই বিরোধের কারণে মানসিক চাপের মধ্যে আছে এবং শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হামলার পরে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে গেছে। পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও স্থানীয়রা এখনও আতঙ্কিত। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

সাইফুল সরদারের মৃত্যু কেবল পরিবারের জন্যই নয়, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও এক গভীর ধাক্কা। স্থানীয় নেতাদের মতে, আধিপত্য বিস্তার এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কখনো কখনো হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন হয়েছেন যে, ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে এবং সাধারণ মানুষ ও এলাকার শান্তি নষ্ট হতে পারে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতারা বার্তা দিয়েছেন যে, আইনের শাসন ও শান্তি বজায় রাখাই প্রথম অগ্রাধিকার। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে এলাকায় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক মহল সবসময় আশা রাখে, এমন ঘটনা যেন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড রোধ করা যায়।

এই ঘটনায় শুধু বিএনপি নেতার মৃত্যু নয়, পুরো এলাকায় সামাজিক অবস্থা ও রাজনৈতিক পরিবেশ প্রভাবিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান এখন সকলের কাছে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত