ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ঢাকা-৯ থেকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৯ বার
ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন ঢাকা-৯ থেকে

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার তিনি নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে ঘোষণা দেন যে, নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থেকে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান।

বিবৃতিতে ডা. জারা জানিয়েছেন, খিলগাঁওয়ের সন্তান হিসেবে তার স্বপ্ন সবসময় ছিল নিজের এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের সেবা করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের হয়ে নির্বাচনে না যাওয়াই তার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি দেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।

ঢাকা-৯ আসনের অন্তর্গত খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসীকে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার কোনো দলীয় কার্যালয় বা সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকবে না। এই নির্বাচনে তার একমাত্র ভরসা হচ্ছেন এলাকাবাসী। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অদম্য ইচ্ছা তার রয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থনের ওপর নির্ভর করেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাবেন।

নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে হলে ঢাকা-৯ আসনের ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা আবশ্যক। ডা. জারা জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি এলাকাবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রার্থীতা বৈধ ও শক্তিশালী হয়।

ডা. জারা নির্বাচনী ফান্ড বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন, যারা আগে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে ভেবে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন, তাদের প্রতি সম্মান বজায় রেখে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেউ যদি তাদের অর্থ ফেরত চান, তবে তারা নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন। ট্রানজেকশন আইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিকোণ ও স্বতন্ত্র প্রচারণার মাধ্যমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ডা. জারার এই পদক্ষেপকে অনেকেই দেশীয় রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ভোটারদের কাছে আরও বিকল্প ও স্বাধীন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

ডা. তাসনিম জারা আগে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ তাকে নিজের স্বাধীন পরিচয় ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেবে, যা কোনো দলীয় বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

এর আগে তিনি এনসিপির সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এই প্রেক্ষাপট ডা. জারার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তকে আরও প্রাসঙ্গিক ও জনগণের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডা. জারা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রচেষ্টা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি চাই ভোটাররা আমার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতা করবেন।” এই বক্তব্যে তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকার প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে ডা. তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থীতা যে কতোটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী এলাকাগুলিতে ভোটারদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে স্থানীয় ভোটাররা ইতিমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার প্রচারণা ও উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার দিক থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ডা. জারার অংশগ্রহণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খিলগাঁও ও মুগদাবাসীর ভোটাররা তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

ডা. জারার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দিকেও নতুন আলো ফেলেছে। দলমুক্ত বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের প্রচেষ্টা আরও স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোট প্রক্রিয়াকে আরও প্রাণবন্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত