ইলেকট্রিক শক থেকে কম্পিউটার বাঁচানোর কার্যকর উপায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার
ইলেকট্রিক শক থেকে কম্পিউটার বাঁচানোর কার্যকর উপায়

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ঘরোয়া বাস্তবতায় বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য একটি বড় হুমকি। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং আবার আসার ফলে কম্পিউটার নীরবে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মাদারবোর্ড, পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ডডিস্ক বা চার্জার—যে কোনো অংশ এক মুহূর্তের ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে নষ্ট হতে পারে। ব্যবহারকারীরা অনেক সময় বুঝতেই পারেন না, কোথা থেকে ক্ষতি শুরু হয়েছে। তবে সচেতনতা ও কিছু সরল পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে এড়িয়ে চলা সম্ভব।

বিদ্যুতের হঠাৎ ওঠানামার মূল কারণ হলো সার্জ বা অতিরিক্ত ভোল্টেজ। বজ্রপাত, ট্রান্সফরমারের সমস্যা, জেনারেটর বা ইনভার্টার অন-অফ—এসব সময় লাইনে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ভোল্টেজ সরাসরি কম্পিউটারে পৌঁছালে সংবেদনশীল সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ সরাসরি ওয়াল সকেটে সংযুক্ত রাখা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস।

ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভালো মানের সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা। সাধারণ মাল্টিপ্লাগ নয়, সার্জ প্রটেকশনযুক্ত মাল্টিপ্লাগ অতিরিক্ত ভোল্টেজ শোষণ করে কম্পিউটারে পৌঁছাতে দেয় না। বিশেষ করে ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর এবং রাউটার সবসময় সার্জ প্রটেক্টরের মাধ্যমে সংযুক্ত রাখা উচিত। ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরাও চার্জার সরাসরি দেয়ালে না লাগিয়ে সার্জ প্রটেক্টরের মাধ্যমে ব্যবহার করলে চার্জার ও ব্যাটারি দুটোই নিরাপদ থাকে।

ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউপিএসও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। ইউপিএস কেবল বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ দেয় না, বরং ভোল্টেজ ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়তা করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেস্কটপ আচমকা বন্ধ হলে হার্ডডিস্ক ও অপারেটিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইউপিএস এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমায়। তবে সব ইউপিএস সমান নয়; ভোল্টেজ রেগুলেশন সুবিধাযুক্ত ইউপিএস হলে সুরক্ষা আরও ভালো হয়।

গ্রাউন্ডিং বা আর্থিংও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক বাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইনের সঠিক গ্রাউন্ডিং থাকে না। এর ফলে লিকেজ কারেন্ট তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে কম্পিউটারের ক্ষতি করে। কখনো কখনো ধাতব কেসে হাত দিলে হালকা শক লাগার অনুভূতিও হয়, যা বিপজ্জনক। এমন অবস্থায় একজন যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে লাইনের গ্রাউন্ডিং ঠিক করা জরুরি।

ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের একটি সাধারণ ভুল হলো বজ্রপাত বা ভারী বৃষ্টির সময় চার্জে রেখে ব্যবহার করা। এমন সময় লাইনে সার্জের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে চার্জ খুলে ব্যাটারিতে কাজ করাই নিরাপদ। এছাড়া চার্জার, পাওয়ার সাপ্লাই বা প্লাগ ঢিলা বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। পুরনো বা নকল চার্জার থেকেও শর্টসার্কিট ও শকের ঝুঁকি থাকে।

পরিবেশগত বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভেজা হাত, ভেজা মেঝে বা পানির কাছাকাছি বসে কম্পিউটার ব্যবহার বিপজ্জনক। চা, পানি বা কফি পড়ে শর্টসার্কিট ঘটতে পারে এবং ডিভাইস নষ্ট হতে পারে। তাই কাজের টেবিল শুকনো রাখা এবং শিশুরা যাতে স্পর্শ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ইলেকট্রিক শক এমন একটি হুমকি, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু মুহূর্তেই বড় ক্ষতি করতে পারে। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের দাম অনেক সময় মাসের আয়ের বড় অংশের সমান। এই যন্ত্রগুলি বাঁচাতে প্রয়োজন শুধু সাধারণ কিছু সচেতন অভ্যাস। ভালো সার্জ প্রটেক্টর, মানসম্মত ইউপিএস, সঠিক গ্রাউন্ডিং এবং সচেতন ব্যবহার ল্যাপটপ ও ডেস্কটপকে নিরাপদ রাখে। প্রযুক্তি যত আধুনিকই হোক, নিরাপত্তা অবহেলা করলে ক্ষতির সম্ভাবনা সর্বদা থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত