প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক অটোভ্যান শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে ময়না ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ফুটবল মাঠ সংলগ্ন মহম্মদপুর–বোয়ালমারী সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিক আক্কেল আলী (৪৫) পলাশবাড়ি ইউনিয়নের আড়মাঝি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন পেঁয়াজ রোপণ শ্রমিক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে আক্কেল আলী আরও পাঁচজন শ্রমিককে নিয়ে অটোভ্যানে বোয়ালমারী রেলস্টেশনে জোন বিক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে মহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ অতিক্রম করে ফুটবল মাঠের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান বেপরোয়া গতিতে তাদের অটোভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার প্রভাবে আক্কেল আলী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অটোভ্যানে থাকা অপর পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে তিনজনকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান, আর বাকি দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ময়না ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রিনা বেগম জানান, তার মুদি দোকানের সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি বলেন, “সকালে দোকান খুলে পানি আনতে গেলে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে আসি। দেখি পিকআপের সঙ্গে অটোভ্যানের সংঘর্ষ হয়েছে। ছয়জন আরোহী ছিটকে পড়ে। একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।”
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও অটোভ্যান জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। তবে পিকআপ চালক গাড়ি রেখে পালিয়ে গেছে। নিহত আক্কেল আলীর মরদেহ বর্তমানে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যেহেতু ঘটনাটি বোয়ালমারী থানার আওতায় পড়ে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয়রা পুনরায় সড়ক নিরাপত্তার দিকে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। প্রতিদিন সকাল–সন্ধ্যা এমন যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করায় অদূরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলাচলকে সুরক্ষিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, সড়কের ওই অংশটি দুর্ঘটনাপ্রবণ। যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, রাস্তার দুর্বল দিক, এবং সময়মতো নিরাপত্তা মানা না হওয়া এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আক্কেল আলীর মতো পেশাজীবী শ্রমিকদের প্রাণহানি পরিবারের জন্য চরম শোকের বিষয়। এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার কামনা জানানো হচ্ছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রভাব শুধু নিহত ও আহতদের পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবেশ, শ্রমিক সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষও এতে আতঙ্কিত হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের তৎপরতায় আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ ও যানবাহন জব্দ করা হলেও, পিকআপ চালককে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, যানবাহনের দ্রুতগতির কারণে সড়কে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশেষ করে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য সড়ক নিরাপত্তা মানা অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।
এ দুর্ঘটনার পর বোয়ালমারীর স্থানীয় বাসিন্দারা পথচারী ও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তকরণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।