প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা সামনে রেখে দেশের সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার কেন্দ্রের খসড়া তালিকায় পরিবর্তন এনে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বোর্ডের আওতাধীন সরকারি ও বেসরকারি সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সংশোধিত খসড়া কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করা হয়। বোর্ড জানিয়েছে, এটি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রয়োজন হলে তালিকায় আরও সংশোধন আনা হতে পারে। ফলে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আপত্তি বা সংশোধনের প্রস্তাব জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতে কোনো অসংগতি না থাকে।
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খসড়া কেন্দ্র তালিকা নিয়ে কোনো ধরনের আপত্তি, ভুল বা বাস্তবসম্মত সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হবে না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা ইতোমধ্যে বোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বোর্ড সূত্র জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্র সংক্রান্ত বিষয়ে সামান্য অসংগতি থাকলেও তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই আগেভাগেই সংশোধিত খসড়া প্রকাশ করে মতামত নেওয়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। ঢাকা বোর্ডের অধীনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বোর্ডের নজরে আনার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত সময়সূচিও ঘোষণা করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড জানায়, আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে ফরম পূরণ সম্পন্ন করতে হবে। আর পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ জানুয়ারি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফরম পূরণ ও ফি জমার ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করা হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনি পরীক্ষা বা প্রাক-পরীক্ষা (টেস্ট পরীক্ষা) সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হবে। বোর্ড মনে করছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের তালিকা সংশোধন ও সময়সূচি আগেভাগে ঘোষণা করার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে। এতে পরীক্ষার সময় প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে। বিশেষ করে কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়টি আগেভাগে জানানো হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যাতায়াত ও অন্যান্য প্রস্তুতি সঠিকভাবে নিতে পারবেন।
অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেক অভিভাবকের মতে, পরীক্ষার কেন্দ্র হঠাৎ পরিবর্তন হলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে চাপে পড়ে। খসড়া তালিকা প্রকাশ করে আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখায় এবার সেই সমস্যা কম হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে ফরম পূরণ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় বিভ্রান্তির সুযোগও কমবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করাই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। সে জন্য কেন্দ্র নির্ধারণ থেকে শুরু করে ফরম পূরণ, ফি জমা, ফল প্রকাশ—সব ক্ষেত্রে একটি সুসংহত সময়সূচি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষা বোর্ডের এই জরুরি নির্দেশনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশোধিত খসড়া কেন্দ্র তালিকা, ফরম পূরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং নির্বাচনি পরীক্ষার ফল প্রকাশের নির্দেশনা—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তৈরি হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট সবাই সময়মতো দায়িত্ব পালন করলে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের।