ইনসাফের প্রশ্নে আপসহীন রাজনীতি চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার
ইনসাফের প্রশ্নে আপসহীন রাজনীতি চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস নয়—এই স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখান থেকে মুক্তির পথ একমাত্র ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির মধ্য দিয়েই সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার কুমিল্লা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাফুল ইসলাম শহীদসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার মুহূর্তে উপস্থিত মানুষের মধ্যে এক ধরনের আবেগ, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে লক্ষ করা যায়।

মনোনয়নপত্র জমা শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তারা কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা স্বার্থের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য একটি ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের কারণে এ দেশের মানুষ মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা সেই জায়গা থেকে মুক্তি চাই।”

হাসনাত আবদুল্লাহের বক্তব্যে উঠে আসে অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নও। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত না হলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সার্বজনীনভাবে পৌঁছে যায়, সেটিই তাদের লক্ষ্য। তার মতে, শুধু নির্বাচন নয়, নির্বাচনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনেকেই জীবন দিয়েছেন। বিশেষভাবে শহীদ ওসমান হাদির নাম উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। তার আত্মত্যাগ আমাদের কাছে একটি দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে।” তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে রাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতিবাজদের রাজনৈতিক আশ্রয়—এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোটের যে মনোভাব, সেটি আমরা শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তব রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত রাখবো।”

ইনসাফের প্রশ্নে ‘আনকম্প্রোমাইজিং’ অবস্থানের বিষয়টি বারবার তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যদি আপস করা হয়, তাহলে রাজনীতির নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। তিনি বলেন, “ইনসাফের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান থাকবে আপসহীন। কেউ ক্ষমতাবান হলেই তার অন্যায় মেনে নেওয়া হবে—এই সংস্কৃতি আমরা ভাঙতে চাই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহের এই বক্তব্য মূলত একটি আদর্শিক অবস্থানকে সামনে আনার চেষ্টা। ইনসাফ, দুর্নীতিবিরোধিতা এবং ভোটাধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি কুমিল্লা-৪ আসনের ভোটারদের কাছে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন।

কুমিল্লা অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতিতে হাসনাত আবদুল্লাহ একটি পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি সেই দাবিকেই শক্তিশালী করেছে।

এদিকে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের দাবি শুধু রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও বেদনার সঙ্গেও যুক্ত—এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তারা এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করেন যেখানে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার—সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থা ফিরবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্র আরও স্থিতিশীল হবে।

সব মিলিয়ে, কুমিল্লা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ শুধু একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেন না, বরং ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরলেন। এখন দেখার বিষয়, এই বার্তা ভোটারদের কতটা অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং ইনসাফের প্রশ্নে তার ঘোষিত ‘আনকম্প্রোমাইজিং’ অবস্থান বাস্তব রাজনীতিতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত