প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টানা কয়েক দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে স্বস্তির খবর এলো। ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকেই সারা দেশে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা স্বর্ণের বাজারে এই মূল্যহ্রাস ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস স্বর্ণের নতুন দাম ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য ওঠানামা এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক বাস্তবতা বিবেচনায় এনে এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে, তারপরও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সংগঠনটি।
নতুন নির্ধারিত দামের ফলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে বাজুস জানিয়েছে।
স্বর্ণের এই নতুন বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আগের মতোই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গহনার নকশা, মান ও কারুকাজভেদে মজুরির অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে। ফলে ক্রেতারা দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন দামের মুখোমুখি হতে পারেন।
এর মাত্র একদিন আগেই, গত ২৮ ডিসেম্বর, দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য। সেই দামে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই রেকর্ড দাম থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমলো স্বর্ণের মূল্য।
চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে দামের ওঠানামা ছিল নজিরবিহীন। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৯২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র ২৮ বার। তুলনামূলকভাবে আগের বছর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল ৬২ বার, যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের বাজার কতটা অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম, ডলার-টাকার বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা—সব মিলিয়েই দেশের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়। বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে স্বর্ণের দামে এই হ্রাসকে অনেকেই বাজারে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন। বিয়ের মৌসুম ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় স্বর্ণের দাম কমায় সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকায়।
চলতি বছরে রুপার দামও একাধিকবার সমন্বয় করা হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ৩ বার কমেছে। অন্যদিকে, গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ৩ বার। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট, স্বর্ণের তুলনায় রুপার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা সেখানে কম নয়।
এই প্রতিবেদনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসন্ধান করে এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনে পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠক স্বর্ণ ও রুপার বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ও সামগ্রিক ধারণা পান।
বছরের শেষ দিনে এসে স্বর্ণের দামে এই বড় ধরনের পতন বাজারে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সামনে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন নতুন বছরের বাজার পরিস্থিতির দিকে, যেখানে স্বর্ণ আবারও বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে কতটা স্থিতিশীল থাকে, সেটিই দেখার বিষয়।