তাইওয়ান ঘিরে চীনের দ্বিতীয় দিনের সামরিক মহড়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
তাইওয়ান ঘিরে চীনের দ্বিতীয় দিনের সামরিক মহড়া

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তাইওয়ানের চারপাশে চীন টানা দ্বিতীয় দিনের মতো লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালিয়েছে। ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে দুই দিনের এই মহড়ায় চীনা সামরিক বাহিনী তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধ ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুশীলন করেছে। বেইজিং জানিয়েছে, মহড়ার মাধ্যমে তাদের সমুদ্র ও আকাশে সমন্বয় দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে। তবে তাইওয়ান এই পদক্ষেপকে “সামরিক ভীতি প্রদর্শন” হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দেয়। মঙ্গলবার ভোরের দিকে চীনের পিংতান দ্বীপ থেকে কমপক্ষে ১০টি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। সাদা ধোঁয়ার রেখা রেখে ছোড়া এসব রকেট আকাশে বিকট শব্দের সাথে এলাকাজুড়ে কম্পন সৃষ্টি করে। এ দৃশ্য দেখতে উপকূলজুড়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড় জমে, অনেকে মোবাইলে ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন।

পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জানিয়েছে, ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীনে তাইওয়ানের উত্তরের জলসীমায় মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে এবং লক্ষ্য সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মহড়ায় শনাক্তকরণ, সতর্কতা ও বিতাড়ন, সিমুলেটেড স্ট্রাইক, সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ, আকাশ ও সাবমেরিন-বিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চীনা সামরিক মুখপাত্র শি ই বলেন, এই মহড়া ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’পন্থী শক্তির বিরুদ্ধে একটি কঠোর সতর্কবার্তা এবং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় এটি বৈধ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি মহড়ার মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে কিলুং ও কাওশিয়ুংসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধের অনুশীলন দেখানো হয়েছে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপের আশপাশে ১৩০টি চীনা সামরিক বিমান, ১৪টি নৌযান এবং আটটি অন্যান্য সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, এই মহড়া চীনের আগ্রাসী মনোভাবকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তাইওয়ান আন্তর্জাতিক নৌ ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেনশিয়াল অফিসের মুখপাত্র কারেন কুও বলেন, “আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুমকি দেওয়ার এই সামরিক তৎপরতা নিন্দনীয়।”

চীনের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে বড় পরিসরে অস্ত্র সরবরাহ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ ঘটে, তবে টোকিও সামরিক প্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সতর্ক করেছেন, “বহিরাগত শক্তি যদি তাইপেকে অস্ত্র সহায়তা দেয়, তবে তাইওয়ান প্রণালী দ্রুত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের পুনঃএকত্রীকরণ ঠেকানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।”

এই মহড়ার মাধ্যমে চীনের সামরিক বাহিনী তার নৌ ও আকাশ বাহিনীর সক্ষমতা, লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ এবং অবরোধ দক্ষতা যাচাই করেছে। চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, মহড়া জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে তাদের শক্তি প্রদর্শনের একটি কৌশল। তবে তাইওয়ান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মহড়াটিকে এক ধরনের উত্তেজক ও হুমকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

চীনা মহড়ার ফলে তাইওয়ান উপকূলে ভয়, উদ্বেগ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মহড়ার রকেট উৎক্ষেপণের শব্দ এবং আকাশে সাদা ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই সামরিক মহড়া কেবল তাইওয়ানের জন্য নয়, সমগ্র পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

চলতি বছরের এপ্রিলেও চীন তাইওয়ানের চারপাশে বড় পরিসরে লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়েছিল। তৎকালীন ঘটনাও তাইপের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের সামরিক মহড়া নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তাদের দাবি প্রমাণিত হয়।

এই সংবাদ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে, মানবিক ও পাঠক-আকর্ষণীয়ভাবে পেশ করা হয়েছে। সংবাদে পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে, যাতে পাঠকরা পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট সহজভাবে বুঝতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত