কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসা বিস্ফোরণ: আশ্রয়দাতার পাঁচ দিনের রিমান্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৮ বার
কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসা বিস্ফোরণ: আশ্রয়দাতার পাঁচ দিনের রিমান্ড

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রধান আসামি আল আমিনের আশ্রয়দাতা আহসান উল্লাহর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই রিমান্ড আদেশ দেন।

পুলিশের আবেদন অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রধান আসামি আল আমিন ঘটনার পর আশ্রয় নেন আহসান উল্লাহর কাছে। আল আমিনের সঙ্গে আশ্রয়দাতা আসামির পূর্ব পরিচয় রয়েছে এবং তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। প্রধান আসামিকে শনাক্ত এবং অন্য আসামিদের ধরার জন্য তার রিমান্ডে রাখা অপরিহার্য। আদালত শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আসামিকে আদালতে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, “আমি হকারি করতাম, এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কিছুই জানি না।” তবে মামলায় আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার পেছনের ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার মাদরাসার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে কক্ষে থাকা দেয়াল ও ছাদের অংশ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট, এন্টি টেররিজম ইউনিট, র‍্যাব, ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

দুই দিনের বিস্তৃত উদ্ধার অভিযান শেষে দেখা যায়, পলাতক প্রধান আসামি আল আমিনের ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা বানানোর সরঞ্জাম, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড, সাদা রঙের পাউডার, ৯টি ককটেলসদৃশ বস্তু, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক এবং অন্যান্য বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এই আলামতগুলো প্রমাণ করে, মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ পরিকল্পিত এবং আসামিরা নিষিদ্ধ কার্যকলাপে যুক্ত ছিল।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ ও মনিটরসহ অন্যান্য আলামতও মামলার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মামলাটি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ইসলাম লিটন সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে দায়ের করেছেন। প্রধান আসামি আল আমিন এখনও পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্ত ও রিমান্ড কার্যক্রম চলমান থাকায় পুলিশ ও তদন্ত সংস্থা এই ঘটনায় সম্পৃক্ত অন্যান্য আসামিদের ধরার চেষ্টা করছে।

ঘটনার এই বিস্তৃততা এবং উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক সরঞ্জামের পরিমাণ দেখাচ্ছে, মাদ্রাসার বিস্ফোরণ কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। তদন্তকারীরা বলছেন, মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করা ও অপরাধের পুরো চক্র উদঘাটন করা অপরিহার্য। আদালতের রিমান্ড আদেশে এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় আশেপাশের এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধ্বংসযজ্ঞ দেখে অনেকেই নিরাপদ স্থানে চলে যান। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যৌথভাবে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্তের ফলে পলাতক প্রধান আসামি ও তার আশ্রয়দাতাদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মামলার পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রিমান্ড অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত