১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’: পালিত হবে জাতীয় দিবস হিসেবে, তবে থাকছে না সরকারি ছুটি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৩ বার
১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’: পালিত হবে জাতীয় দিবস হিসেবে, তবে থাকছে না সরকারি ছুটি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে দিনটিকে সরকার ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করায়, এতে সরকারি ছুটির বিধান থাকছে না। সরকারি কার্যক্রম যথারীতি চলবে, শুধু সীমিত পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হবে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে।

২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনসংক্রান্ত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবরের পরিপত্র অনুযায়ী ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস বলতে বোঝায়, রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলেও সীমিত পরিসরে উদযাপনযোগ্য দিবস, যেগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে না। বরং সচিবালয়সহ সকল সরকারি দপ্তরে কর্মদিবস হিসেবেই তা গণ্য করা হয়। ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের মতো এদিন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা বা ছুটি থাকে না। সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তা সীমিত আকারে পালন করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, সরকার আগামী ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের মর্যাদা দিয়েছে, যার ফলে ওইদিন সরকারি ছুটি থাকবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, ৫ আগস্ট যথাযোগ্য মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়, ৫ আগস্টের দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় তা সরকারিভাবে অধিক গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হবে, এবং সরকারি ছুটির বিধান কার্যকর থাকবে। এ ঘোষণার মাধ্যমে ১৯৭৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের নির্দেশ দিয়েছে। এর আওতায় স্কুল ও কলেজগুলোতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হবে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা পর্যায়ে অবদান রাখা আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের স্মরণে এ ধরনের দিবস নির্ধারণ রাষ্ট্রীয় চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসগুলোর গুরুত্ব এবং গণমানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে তা নিয়ে আরও সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন বলে অভিমত শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের।

নতুন এই দিবস ঘোষণাগুলোর মাধ্যমে সরকার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে জাতীয়ভাবে পুনর্মূল্যায়নের পথে এগোচ্ছে, যা একদিকে যেমন অতীতকে সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে সহায়তা করবে। তবে এ জাতীয় দিবস পালনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি, যেন তা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক সজীব ইতিহাসচর্চার অংশ হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত