রাজধানীতে সেনা অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ পাঁচ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
রাজধানীতে সেনা অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ পাঁচ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুর এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি, পেট্রোল বোমা এবং বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই গ্রেফতার রাজধানীতে সম্ভাব্য বড় ধরনের নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোররাতে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একটি চৌকস দল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন কৃষি মার্কেট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত এই অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে থাকা একটি সন্ত্রাসী চক্রকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়, যাতে কোনোভাবে সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যেতে না পারে।

গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন মো. আসলাম (৩৮), মো. নাদিম (৩০), মো. ইমতিয়াজ (৩৬), মো. সুমন (৩৫) এবং মো. পলাশ (৪৮)। তারা সবাই মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যার গায়ে ‘মেড ইন ইউএসএ’ লেখা ছিল। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড তাজা গুলি এবং ১০টি তাজা পেট্রোল বোমা। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতা ও নাশকতায় ব্যবহার হতে পারত বলে আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে সেনাবাহিনী বিস্তারিত জানায়নি, তবে সূত্র বলছে, এগুলোর মধ্যে দেশি মাদক ছাড়াও বিদেশি মাদক রয়েছে, যা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে এই চক্রটি জড়িত ছিল, যা রাজধানীর সামাজিক নিরাপত্তা ও যুবসমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।

মোহাম্মদপুর সেনাবাহিনী ক্যাম্পের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত নভেম্বরে একই এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে ককটেলসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় তাদের কিছু সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কৃষি মার্কেট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল একটি ধারাবাহিক অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য রাজধানীর অপরাধী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।

অভিযানের সময় আশপাশের এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষ প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরে সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখে স্বস্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ ছিল। রাতের বেলায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করছিল। সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে তারা নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপদ রাখতে সেনাবাহিনী সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও নাশকতার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর এই ধরনের বিশেষ অভিযান সময়োপযোগী। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক টানাপোড়েনের সময়ে অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের মতো বিপজ্জনক উপাদান একসঙ্গে উদ্ধার হওয়া প্রমাণ করে, এই চক্রটি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মামলার সূত্র ধরে রাজধানীর অপরাধ জগতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম উঠে আসতে পারে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, রাজধানীতে অপরাধ দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো সক্রিয় ও সতর্ক রয়েছে। অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের মতো ভয়ংকর উপাদান উদ্ধার এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দেওয়ার এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য একদিকে স্বস্তির বার্তা, অন্যদিকে অপরাধীদের জন্য কঠোর সতর্ক সংকেত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত