প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে জানাজা ও দাফন উপলক্ষে অংশ নিতে আগ্রহী সাধারণ জনগণ ও নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩টায় তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরস্থলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, জানাজায় উপস্থিতদের কোনো ধরনের ব্যাগ, বিশাল সামগ্রী বা বিপুল জিনিসপত্র সঙ্গে নেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসমাগমের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার জন্য এই বিধি আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি দাফনের কার্যক্রম হবে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার সেখানে সীমিত থাকবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বজায় রেখে কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিগত চার দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির নেতৃত্বে থাকা খালেদা জিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী ও আপসহীন নেত্রীর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া তিনি ৪১ বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পাঁচবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাব অর্জন করা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন গভীর প্রভাব রেখেছে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।
বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও সংক্রমণজনিত রোগের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে বুধবার সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সাধারণ ছুটি থাকবে।
জনসাধারণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য জানাজা ও দাফনের সময়সূচি এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকবেন। নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশনা সমগ্র অনুষ্ঠানকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সুষ্ঠুভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পারবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অবদান ও তার নেতৃত্বের ইতিহাসকে স্মরণ রেখে জানাজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কঠোরভাবে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ রীতিমতো উৎসর্গবোধ নিয়ে এই শোকাবহ মুহূর্তে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সময় সকলকে সংযম ও নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণতন্ত্রের পক্ষে অদম্য লড়াই এবং দেশের জন্য তার অবদানকে স্মরণ করা হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষও শোক প্রকাশ ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবে, যেখানে অংশগ্রহণের সময় নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যে শূন্যস্থান সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করা সহজ নয়। তবে জানাজা ও দাফনের মাধ্যমে দেশবাসী তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে পারবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত এই আয়োজন দেশবাসীকে শোকের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেবে।