প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই শোকের সময়ের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পড়ায় পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নিশ্চিত করেছে, রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে কোনো বাধা নেই এবং পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার জাতীয় পরামর্শদাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস টেলিভিশনে ভাষণ প্রদান করে জানিয়ে দেন, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের শোক পালনের মধ্যে পড়েছে শুক্রবারের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এর পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, শোকের কারণে পরীক্ষা পেছানো হতে পারে। চাকরিপ্রার্থীরা এই গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং প্রস্তুতি নিয়েও শঙ্কায় থাকেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের গবেষণা কর্মকর্তা এস এম মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসে নি। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি কোনো পরিবর্তন হয়, তা সময়মতো জানিয়ে দেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কোনও প্রার্থীরই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, দুই ধাপের পরীক্ষার জন্য মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। ফলে প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ৭৫ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতা করবেন। প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
এই পরীক্ষা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ, যা শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পান, তাই পরীক্ষার সময়সূচিতে পরিবর্তন বা স্থগিত হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলে আসছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীরা বিভিন্ন বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিবেন। শোক পালনের সময়ও পরীক্ষা আয়োজন করা হয় মূলত শিক্ষা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য। এতে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পাশাপাশি দেশের জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে, এবং এ সময় সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদেশের মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়নি।
উপসংহারে বলা যায়, প্রার্থীরা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা দিবেন। শোকের কারণে পরীক্ষা স্থগিত বা পেছানোর গুজব শুধুমাত্র ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রার্থীদের অবশ্যই সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও অধিদফতরের তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। দেশের শিক্ষাগত অঙ্গনের জন্য এই নিয়োগ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা শিডিউল অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।