পদ্মায় নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার
পদ্মায় নিখোঁজের ৬ দিন পর শ্রমিকের মরদেহ ‌উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া আরিফ শেখ (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে মরদেহটি নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা জানালে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।

মৃত শ্রমিক আরিফ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল গত বুধবার। চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলারচর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু বোঝাই বাল্কহেড থেকে তিনি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরিফ ওই বাল্কহেডের সুকানি হিসেবে কাজ করতেন। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে ছিলেন এবং স্থানীয় মানুষ ও নৌপুলিশ সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

পরিবারের বরাত অনুযায়ী, আরিফ শেখ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার শোলমারী গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। পরিবার ও গ্রামের মানুষদের মধ্যে তাঁর এই অকাল মৃত্যু শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরিফ ছিলেন একটি পরিশ্রমী মানুষ, যার পরিবার ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নৌপুলিশের উপপরিদর্শক আবুজর গিফারি জানান, এ ঘটনায় চরভদ্রাসন থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধারকৃত মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত চলছে। নিহত শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নদীতে পড়ার বিস্তারিত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, নিখোঁজের দিন থেকে এলাকায় একটি ধ্যানধারণার পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। নদীতে কাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। সম্প্রদায়ের মানুষ আরিফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর চাপে এবং হিমালয়ীয় আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে দেরি হয়েছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী আরও সতর্ক হয়ে পদ্মা নদীর আশেপাশে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। নদীতে বালু বোঝাই এবং অন্যান্য কাজের সময় শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উপসংহারে বলা যায়, পদ্মা নদীতে শ্রমিক আরিফ শেখের অকাল মৃত্যু স্থানীয় সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি বড় শোকের ঘটনা। উদ্ধারকাজে স্থানীয়রা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, এবং প্রশাসন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা গেলে শ্রমিক ও নদী পরিবেশ উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত