প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০২৫ সাল বিশ্বের জন্য এক অদ্ভুত বছরের হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বছরের শেষের দিকে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বছরকে বিদায় জানানো হলেও উষ্ণতা, সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে গেছে। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের মানুষ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
২০২৫ সাল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইউরোপের দাবানল, আফ্রিকার তীব্র খরা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাণঘাতী বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামনের বছরগুলোতেও বৈশ্বিক উষ্ণতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমবে না।
নববর্ষ উদযাপনের ক্ষেত্রে উষ্ণতা ও সংঘাতের ছাপ স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে, যা ‘বিশ্বের নববর্ষ রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত, উদযাপন চলাকালীন শহরটি শোকের আবহে ছিল। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসবের সময় বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সিডনির মানুষ এখনও স্তব্ধ। তাই রাত ১১টায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে সিডনি হারবার ব্রিজ সাদা আলোয় আলোকিত করা হয়। সিডনির বাসিন্দা স্টেফ গ্রান্ট বলেন, “অনেক মানুষের জন্যই এটি ছিল কঠিন একটি বছর। আশা করি ২০২৬ আরও ভালো হবে।” মধ্যরাতে প্রায় নয় টন আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে হারবার এলাকায় জড়ো হন লক্ষাধিক মানুষ। নিরাপত্তা বাড়াতে সশস্ত্র পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা-সমূহের মধ্যে লাবুবু পুতুলের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা, লুভর জাদুঘরে সাহসী চুরি, কেপপ তারকা বিটিএসের সঙ্গীত মঞ্চে প্রত্যাবর্তন এবং খ্যাতিমান প্রাণিবিজ্ঞানী জেন গুডলের মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। একই বছর ভ্যাটিকানে নতুন পোপ নির্বাচিত হন, আর যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী কর্মী চার্লি কির্কের হত্যাকাণ্ড দেশটির রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র করে।
২০২৫ সালের শুরুতে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এই নীতির প্রভাব প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে চীনের কারখানাগুলোতে অনুভূত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৬ সালেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও সংকটের প্রভাব বজায় থাকবে।
দ্বিতীয় দিকে গাজা উপত্যকায় দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা এর স্থায়িত্ব অনিশ্চিত করেছে। তেমনি, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধও চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শান্তি এখনও দূরবর্তী লক্ষ্য।
নতুন বছরকে ঘিরে বড় আয়োজনও রয়েছে। নাসা ২০২৬ সালে চাঁদের উদ্দেশ্যে আবারও মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। আর্টেমিস-২ মিশনে মানুষসহ মহাকাশযান চাঁদের চারপাশে ঘোরানোর কথা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয়ও বাড়ছে। ইতালিতে শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব এখন ২০২৫ সালের উষ্ণতা, সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বছর পেরিয়ে নতুন আশার খোঁজে তাকিয়ে। মানুষ আশা করছে, ২০২৬ সাল হবে এমন একটি বছর যা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাবনার দিক উন্মুক্ত করবে। নতুন বছরে নতুন প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।