২১তম দেশ হিসেবে ইউরো চালু করল বুলগেরিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৫ বার
বুলগেরিয়া ইউরো চালু ২০২৫

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়া বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে লেভ মুদ্রার জায়গায় ইউরো চালু করেছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশটি ইউরোজোন বা সেনজেন মুদ্রা অঞ্চলের ২১তম সদস্য হয়ে ওঠেছে। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি ক্রোয়েশিয়া ২০তম দেশ হিসেবে ইউরো গ্রহণ করেছিল। বুলগেরিয়ার এই সিদ্ধান্ত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই এসেছে।

১৯ শতকের শেষ দিকে, ১৮৮১ সালে বুলগেরিয়ায় লেভ মুদ্রা চালু হয়। প্রায় দেড় শতাব্দীর পর আজ সেই লেভের জায়গায় ইউরো মুদ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। বুলগেরিয়া ২০০৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হলেও ইউরোজোনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য মানদণ্ড পূরণ করতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরোতে হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই মানদণ্ড পূরণ করেছে।

এই পদক্ষেপের ফলে ইউরো ব্যবহারকারী ইউরোপীয়দের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ৩৫ কোটি ৬০ লাখে। চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এটি ভৌগোলিকভাবে প্রথমবারের মতো কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী এলাকায় একক মুদ্রার প্রসার ঘটাচ্ছে। ৬৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির একাধিক সরকার ইউরো চালুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। সরকারের আশা, ইউরো চালু হওয়া দেশটির দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং রাশিয়ার প্রভাব থেকে বুলগেরিয়াকে রক্ষা করবে।

তবে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ইউরো গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সংকটের সম্ভাবনা থাকতে পারে। বুলগেরিয়া বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের কারণে সম্প্রতি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টমবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ মঙ্গলবার বলেন, তার মন্ত্রিসভা একটি মাইলফলক অর্জন করেছে। তিনি বলেন, “বুলগেরিয়া বছর শেষ করছে ১১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার) মোট দেশজ উৎপাদন এবং তিন শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে, যা আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশটির মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি, যা বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত। এটি ইউরো প্রবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।”

বুলগেরিয়ার ইউরো প্রবর্তনকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। একদিকে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দেশটির স্থিতিশীলতা এবং সংহতি বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এদিকে, দেশটির সাধারণ মানুষ ইউরো প্রবর্তনের কারণে মূলত মূল্যবৃদ্ধি, দৈনন্দিন ব্যয়ের পরিবর্তন এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাথমিক কিছু অর্থনৈতিক অস্থিরতা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইউরো বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বুলগেরিয়ার এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, ভৌগোলিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্বেও তা দেশের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে একক মুদ্রার ব্যবহার এবং ইউরোজোনে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বুলগেরিয়া ইউরোপীয় অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে আরও সংযুক্ত হবে।

বুলগেরিয়ার ইউরো গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউরোজোনের মানদণ্ড পূরণকারী দেশগুলোর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় জনগণের জন্য এটি একটি বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইঙ্গিত। এই পদক্ষেপ শুধু দেশটির অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে এবং ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত