খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের ঢল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৬ বার
খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের ঢল

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন তৈরি হয়েছে শোকের আবহ, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নেমে এসেছে আবেগ, স্মৃতি ও শ্রদ্ধার এক প্রবল ঢেউ। দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হওয়া এই জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানাজা শেষে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আপসহীন এই নেত্রীকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

খালেদা জিয়ার জানাজার ছবি ও ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন নানা ভাষায়। কেউ চোখের জলে ভেজা স্মৃতি তুলে ধরেন, কেউ তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন, আবার কেউ এই বিশাল জনসমাগমকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে উল্লেখ করেন। অনেকেই লেখেন, এমন দৃশ্য তাঁরা জীবনে খুব কমই দেখেছেন—যেখানে রাজনৈতিক বিভাজন পেছনে ফেলে মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ফেসবুক পেজে খালেদা জিয়ার জানাজার বেশ কয়েকটি ছবি শেয়ার করা হয়। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, “জনসমুদ্রে জনগণের নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত।” এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও একই ছবি ও বক্তব্য শেয়ার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য খালেদা জিয়ার জানাজার একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “দেশমাতার জন্য জেগে ওঠে বাংলাদেশ।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন বক্তব্য অসংখ্য মানুষের অনুভূতির প্রতিধ্বনি হয়ে ওঠে। অনেকে মন্তব্যে লেখেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

জুনায়েদ আহমেদ নামের একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ।” তাঁর এই মন্তব্যে হাজারো মানুষ সম্মতি জানান। অনেকেই লেখেন, এই জানাজা শুধু একজন নেত্রীর বিদায় নয়, বরং একটি সময়ের সাক্ষী হয়ে রইল।

বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি-শাহবাগ-চীন মৈত্রী সব ক্রস করে গুলিস্তানের দিকেও জানাজার লাইন চলে যাচ্ছে।” তাঁর এই বর্ণনা জানাজার বিশালতা ও জনসমাগমের ব্যাপ্তিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। অনেকেই মন্তব্যে জানান, তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও জানাজার শেষ দেখা পেয়েছেন।

মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লেখেন, “দেশকে ভালোবাসলে দেশ তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেয়। ছবিটা কারওয়ান বাজারের। নামাজের অনেক আগে তোলা। যদ্দুর খবর পেয়েছি মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে শ্যামলী, আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি-কলাবাগান পর্যন্ত। তিনি ছিলেন দেশনেত্রী; আজ দেশ তার জানাজায় দাঁড়িয়ে গেছে।” তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিবিদদের জীবন কতটা মহিমান্বিত হতে পারে, তা আমরা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার দেখেছি। তাঁর এই দীর্ঘ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয় এবং আলোচনার জন্ম দেয়।

খালিদ সাইফুল্লাহ নামের আরেকজন লেখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা। আপসহীন নেত্রীকে আল্লাহ্ জান্নাত নসিব করুক।” এই মন্তব্যে অসংখ্য মানুষ আমিন লিখে প্রতিক্রিয়া জানান। ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক শ্রদ্ধা এখানে একাকার হয়ে ওঠে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মানুষের ঢল নেমেছে চারদিক থেকে। কেউ হেঁটে, কেউ গাড়িতে, কেউবা দূর-দূরান্ত থেকে এসে জানাজায় অংশ নিয়েছেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কারও হাতে জাতীয় পতাকা, আবার কারও কণ্ঠে ছিল দোয়া। এই দৃশ্য অনেককে স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় বড় মুহূর্তগুলোকে।

খালেদা জিয়ার জানাজা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা ও আবেগ দেখা গেছে, তা শুধু দলীয় রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ভিন্নমতের মানুষও তাঁর ব্যক্তিত্ব, সাহসিকতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান। অনেকে লেখেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এমন বিদায় একজন নেত্রীর জীবনের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ প্রভাবের এক দৃশ্যমান প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ছবি ও ভিডিও ভবিষ্যতেও স্মরণ করিয়ে দেবে, কীভাবে একজন নেত্রী তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেন। এই বিদায় তাই শুধু শোকের নয়, ইতিহাসেরও অংশ হয়ে রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত