প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) স্টেশন বুধবার সন্ধ্যা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমআরটিসিএল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই স্টেশনটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মজীবী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডিএমআরটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্মানিত যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন দিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ থাকবে। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশন ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। এই ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মজীবী মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, নীলক্ষেত, টিএসসি ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সন্ধ্যার সময় অফিসফেরত যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে সন্ধ্যা থেকে স্টেশন বন্ধের খবরে অনেক যাত্রী বিকল্প পথ নিয়ে চিন্তায় পড়েন।
ডিএমআরটিসিএল জানায়, স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ক্যাম্পাস এলাকায় বিশেষ পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বিবেচনা কিংবা কোনো কর্মসূচির কারণে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অতীতে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি, বড় সমাবেশ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্টেশন বন্ধের খবরে অনেক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া শেয়ার করেন। কেউ কেউ জানান, অফিস শেষে ঢাবি স্টেশন ব্যবহার করে বাসায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু হঠাৎ বন্ধের খবরে বিকল্প স্টেশন বা বাস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আবার কেউ বলেন, আগেভাগে জানানো হলে যাত্রীদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হতো। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসায় পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের আগাম ও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনটি যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু, তাই এর কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়েও যাত্রীদের জানানো উচিত। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমবে এবং অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল। ক্যাম্পাসে বড় কোনো আয়োজন, রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি, কিংবা বিশেষ দিবস উপলক্ষে অতীতে বিভিন্ন সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই ধারণা করছেন, আজকের স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তও এমন কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ডিএমআরটিসিএল থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসায় বিষয়টি নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
ডিএমআরটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেট্রোরেল একটি আধুনিক ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা হলেও স্টেশন এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কখনও কখনও সাময়িক ব্যবস্থা নিতে হয়। তারা যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, এ সময়টুকুতে বিকল্প স্টেশন ব্যবহার করতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা কাছাকাছি শাহবাগ, ফার্মগেট বা অন্য নিকটবর্তী স্টেশন ব্যবহার করতে পারেন বলে অনেকে পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও এতে কিছুটা বাড়তি সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হবে, তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটিই একমাত্র বিকল্প। সন্ধ্যার পর স্টেশনটি কখন আবার খুলবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবস্থাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দ্রুত, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে এটি ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাই যেকোনো স্টেশন বন্ধের খবর মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা সৃষ্টি করে। যাত্রীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি পরিষ্কার করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়মিতভাবে জানাবে।
সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত রাজধানীর যাতায়াতে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, যাত্রীরা আশা করছেন এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে আছেন নিয়মিত যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত স্টেশনটি পুনরায় চালু হবে—এমন প্রত্যাশাই সবার।