কুবি ভর্তিতে ৮৯০ আসনে ৯৪ হাজার আবেদন, শেষ আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
কুবি ভর্তিতে ৮৯০ আসনে ৯৪ হাজার আবেদন, শেষ আজ

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) স্নাতক (সম্মান) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবারও চোখে পড়ার মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনটি ইউনিটে মোট আবেদন পড়েছে ৯৪ হাজার। আবেদন প্রক্রিয়া আজ বুধবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে। শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় সার্ভারে চাপ বাড়ছে, অনেকে শেষ মুহূর্তে আবেদন সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন কার্যক্রম শেষ করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ধাপে পরীক্ষার আসন বণ্টনসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—এই তিনটি ইউনিটে কোটা ব্যতীত মোট আসন রয়েছে ৮৯০টি। পাশাপাশি বিভিন্ন কোটায় অতিরিক্ত ১০৭টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটা রয়েছে ৪৫ জনের জন্য, টিআরকিউ কোটায় ১১ জন, এনআরকিউ কোটায় ৭ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় ৬ জন, পোষ্য কোটায় ১৯ জন এবং খেলোয়াড় কোটায় ১৯ জন আসন রয়েছে। পোষ্য ও খেলোয়াড় কোটার ক্ষেত্রে প্রতি বিভাগে সর্বোচ্চ একজন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

ইউনিটভিত্তিক আবেদন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। ৩০০ আসনের বিপরীতে এই ইউনিটে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৮২৭ জন শিক্ষার্থী। মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে ৩৯০ আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩৬ হাজার ৭০০টি। আর বাণিজ্য শাখার ‘সি’ ইউনিটে ২০০ আসনের জন্য আবেদন করেছেন ১২ হাজার ৪৭৩ জন শিক্ষার্থী। এই সংখ্যাগুলো থেকেই স্পষ্ট, প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র হতে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী। অনেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, ক্যাম্পাসের অবকাঠামো এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাডেমিক অগ্রগতির কারণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও মানবিক ইউনিটে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ৩১ জানুয়ারি সকাল ১১টায় ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা এবং একই দিন বিকেল ৩টায় ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি পরীক্ষা এক ঘণ্টা সময়ের হবে এবং ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেওয়া হবে। পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। সব ইউনিটে পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৩৩।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটি জানিয়েছে, পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্র নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে আসন বণ্টন, পরীক্ষার কেন্দ্র, প্রবেশপত্র ডাউনলোডের সময়সূচি এবং অন্যান্য নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা কমিটি জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী যদি আবেদনের তথ্যের মধ্যে সংশোধন করতে চান, তাহলে আগামী ১ থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে অফিস খোলার সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিট অফিসে যোগাযোগ করে সংশোধনের সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো সংশোধন গ্রহণ করা হবে না।

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও রয়েছে উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, সীমিত আসনের বিপরীতে এত বিপুল আবেদন প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তবুও সঠিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে ভালো ফল করার আশা করছেন তাঁরা। অভিভাবকরাও চান, তাঁদের সন্তানরা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভর্তির সুযোগ পাক।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি দেশের উচ্চশিক্ষায় আগ্রহের ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জও বটে। কারণ বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সামান্য অব্যবস্থাপনাও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে নিয়মিতভাবে অফিসিয়াল ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভুয়া তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করতে বলা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। আজ রাতেই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর্ব। এখন পরীক্ষার্থীদের সামনে মূল লক্ষ্য একটাই—সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় ভালো করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত