প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ অধ্যায় সমাপ্ত হলো মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুর মাধ্যমে। টাঙ্গাইল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। এই বিপুল শোকজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা ও সমগ্র রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মহামান্য রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং অসংখ্য মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল হাসান জীবদ্দশায় রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং টাঙ্গাইলের মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করা একজন আদর্শবান সমাজসেবক। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজধানীর নিজ বাসায়ই এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শান্তিপূর্ণভাবে জীবনাবসান করেছেন।
মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুতে তার পরিবার, সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে শোকের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু ও জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শোকবার্তায় বলেন, “মাহমুদুল হাসান আজীবন টাঙ্গাইলকে একটি আদর্শ নগর গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল মানুষ। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অমূল্য। তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইল সদর একজন অভিভাবক হারাল। আমরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু হয় ১৯৮৮ সালে, যখন তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং সততা তাকে টাঙ্গাইল ও দেশের রাজনীতিতে একটি দৃঢ় অবস্থানে স্থাপন করেছে।
মৃত্যুর পর আগামী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে তাকে চিরকালের জন্য সমাহিত করা হবে। টাঙ্গাইলবাসী ও রাজনৈতিক মহল এই জানাজায় অংশগ্রহণ করে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন।
মাহমুদুল হাসানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান শুধু সমকালীন নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন সেই নেতা, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় তাঁর উদ্যোগগুলোর প্রভাব আজও টাঙ্গাইলবাসীর মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
মহামান্য রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ শোকাহত। তার সমাহিতির মাধ্যমে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, একজন সমাজসেবক ও আদর্শবান মানুষের জীবনচরিতও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বপরায়ণতা এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার তাকে একটি ইতিহাসিক মর্যাদা প্রদান করেছে, যা টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মাহমুদুল হাসানের মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির এক যুগের সমাপ্তি হলেও তাঁর অবদান, আদর্শ ও নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর স্মৃতিচারণ চিরকাল অব্যাহত থাকবে।