প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নববর্ষ শুভেচ্ছা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৯ বার
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নববর্ষ শুভেচ্ছা

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশী ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিসহ সমগ্র বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বুধবার তিনি এক বাণীতে নতুন বছরের আগমনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নতুন বছরে আরও জোরদার হোক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। নতুন বছর সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবাইকে শুভ নববর্ষ।’’

বাণীতে তিনি বলেন, নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুন বছরের আগমনী বার্তা মানুষের মনে নবোদ্যম সঞ্চার করে এবং সুন্দর আগামীর পথে এগোনোর প্রেরণা জোগায়। মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘‘আমরা সকলেই আমাদের দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। নতুন বছরে সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে মোকাবিলা করে আমরা একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’’

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাত্রা, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে পূর্ণতা পাবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘‘সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে এই নির্বাচন ও গণভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। নতুন বছরে এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।’’

মুহাম্মদ ইউনূসের বার্তায় দেশের জন্য দৃষ্টিকোণ স্পষ্ট। নতুন বছরকে তিনি কেবল সময়ের একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখেন না, বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায় ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের নাগরিকরা সক্রিয়ভাবে এই পরিবর্তনের অংশ হতে হবে, যাতে জনগণের অধিকারের সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা যায়।

প্রধান উপদেষ্টার নববর্ষ বার্তায় মানবিক ও সামাজিক দিকও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি নতুন বছরকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখিয়েছেন যেখানে মানুষ পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে জোরদার করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন বছর সকলের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনবে। এই বার্তা জনগণের মাঝে ইতিবাচক মনোভাব ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চেতনা সৃষ্টি করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মুহাম্মদ ইউনূসের বার্তা শুধুমাত্র শুভেচ্ছা নয়, বরং এটি দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে একটি সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনের আহ্বানও বয়ে আনে। দেশের জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার গুরুত্ব বার্তাটির মূলমন্ত্র।

নববর্ষ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তা সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবাইকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বছরকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি প্রেরণাদায়ক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। প্রধান উপদেষ্টার আশা, নতুন বছরে জনগণ ও সরকারের সকল স্তর একযোগে কাজ করে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত